প্রিন্ট এর তারিখঃ সোমবার, ১ জুন ২০২৬, ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

তিন জেলার বাঁকে দাঁড়িয়ে যে সেতু বলে—এসো, তিন দিকেই যাই!

IMG 20250630 WA0112
Mohammad Shariful Alam Chowdhury

তিন জেলার তিন দিকে, এক সেতু! তিতাসের বুকে জেগে ওঠা বিস্ময় ‘ওয়াই সেতু’ এখন পর্যটকের পছন্দের শীর্ষে

সেতু সাধারণত এক দিক থেকে আরেক দিকে যাওয়ার মাধ্যম। কিন্তু এমন একটি সেতু আছে, যা একসঙ্গে যুক্ত করেছে তিন জেলার ও তিনটি উপজেলা—এ যেন প্রকৃতির বুকে এক আধুনিক স্থাপত্যের বিস্ময়! তিতাস নদীর বুক চিরে দাঁড়িয়ে থাকা এই সেতুর নাম ‘শেখ হাসিনা তিতাস সেতু’, যার আকৃতি একেবারে ইংরেজি বর্ণ Y-এর মতো। তাই একে বলা হয় ‘ওয়াই সেতু’।

তিন জেলার সংযোগস্থলে দাঁড়িয়ে তিন ভুবনের দৃশ্যপট

ত্রিমোহনার মধ্যবিন্দুতে দাঁড়ালেই আপনি দেখতে পাবেন—এক দিকে কুমিল্লার হোমনা, অন্যদিকে মুরাদনগর, আর আরেক পাশে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর। ঠিক যেন তিন রঙের তিনপথ ছুটে চলেছে দিগন্ত ছোঁয়ার আশায়। মাঝখানে দাঁড়িয়ে যে কেউ হারিয়ে যেতে পারেন প্রকৃতির অপরূপ দৃশ্যে।

পর্যটক মো. আল আমিনের চোখে ওয়াই সেতু

কুমিল্লার দেবীদ্বার থেকে আসা পর্যটক মো. আল আমিন বলেন—
“ফেসবুকে ছবি দেখেই আগ্রহ হয়েছিল। কিন্তু সামনে দাঁড়িয়ে যখন দেখলাম, তখন মনে হচ্ছিল আমি যেন তিন দিগন্তের মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছি। সন্ধ্যার আলোয় পুরো এলাকা যেন রূপকথার কোনো রাজ্য। এক কথায় অসাধারণ!”

তিন জেলার
তিন জেলার তিন দিকে এক সেতু নাম তার ওয়াই ব্রিজ। ছবি : দৈনিক আজকের কথা।

দুপুরের হাট, সন্ধ্যার আলো—রঙিন হয়ে ওঠে চারপাশ

সেতুর আশেপাশে গড়ে উঠেছে প্রাণচঞ্চল বাজার। বিকেল হলেই বসে ঝাল-মুড়ি, ফুচকা, চা আর মাছ ভাজার মিনি মেলা। তিন উপজেলার দোকানিরা যেন এক মজার প্রতিযোগিতায় ব্যস্ত—কে কাকে টপকায় খাবারের স্বাদে! পরিবার নিয়ে সময় কাটানোর জন্য এক আদর্শ স্থান হয়ে উঠেছে এই সেতু এলাকা।

চাইলে নদীপথেও ঘুরে দেখুন ওয়াই সেতু

সেতুর নিচ দিয়ে চলাচল করে অসংখ্য নৌকা। চাইলে সেখান থেকেই শুরু করতে পারেন আপনার ছোট্ট নৌকা ভ্রমণ। নদীর স্রোত, মাঝির গান আর পাখির ডাক—সব মিলিয়ে মুহূর্তগুলো হয়ে ওঠে স্বপ্নের মতো।


স্থাপত্যের বৈশিষ্ট্য এক নজরে

  • নাম: শেখ হাসিনা তিতাস সেতু
  • আকৃতি: ইংরেজি বর্ণ Y (ওয়াই)
  • দৈর্ঘ্য: ৭৭১ মিটার
  • প্রস্থ: ৮.১০ মিটার
  • উদ্বোধন: ২০১৮ সালে
  • সংযুক্ত উপজেলা: কুমিল্লার হোমনা ও মুরাদনগর, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর

কীভাবে যাবেন?

ঢাকা, চট্টগ্রাম বা সিলেট—সব দিক থেকেই আসা যায় খুব সহজে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক হয়ে কুমিল্লা সেনানিবাস, সেখান থেকে স্থানীয় সড়ক পথে পৌঁছে যাবেন সরাসরি ওয়াই সেতুতে।


উৎসবের সময়ে রঙ আরও গাঢ় হয়

বিজয়া দশমী, ঈদ, নববর্ষ—যেকোনো উৎসবে এই এলাকায় দেখা যায় হাজার মানুষের ঢল। গান, আলো, খাবার আর নদীর কলকল ধ্বনি মিলে পুরো জায়গাটি হয়ে ওঠে উৎসবমুখর।


তিন জেলার ত্রিমোহনায় প্রকৃতি, মানুষ আর স্থাপত্যের এক অদ্ভুত মিলনমেলা—এই সেতু শুধু একটি স্থাপনা নয়, বরং এক মোহময় অনুভূতির নাম।
একবার নয়, বারবার ফিরে আসতে ইচ্ছে হয় এখানে!

প্রিন্ট করুন