

৫ দিনেও সম্পন্ন হয়নি কুমিল্লার মুরাদনগরে সংঘটিত চাঞ্চল্যকর ধর্ষণ মামলার ভুক্তভোগী নারীর ডাক্তারি পরীক্ষা। এতে তদন্তে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে বলে দাবি করেছে একাধিক সূত্র। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পরীক্ষাটি বিলম্বিত হওয়ায় মামলার শক্ত প্রমাণ সংগ্রহে ঘাটতি থেকে যেতে পারে।
গত বৃহস্পতিবার রাতে ঘটনার পরপরই ভুক্তভোগী নারী থানায় মামলা করেন। পরদিন পুলিশ তাকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। তবে ভুক্তভোগী মত পরিবর্তন করায় পরীক্ষা করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছেন মুরাদনগর থানার ওসি জাহিদুর রহমান।
ভুক্তভোগীর পরিবারের একজন সদস্য অভিযোগ করেন, গ্রেপ্তার ফজর আলীকে নির্যাতনের ভয় দেখিয়ে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য তাদের হুমকি দেওয়া হয়েছে। এতে ওই নারী মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে এবং পরীক্ষায় অনীহা দেখান। তবে তিনি এখনও রাজি আছেন, যদি প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও সহায়তা নিশ্চিত করা হয়।
এদিকে ভিডিও ধারণ ও ছড়ানোর ঘটনায় পুলিশ তদন্ত জোরদার করেছে। মূল অভিযুক্ত ফজর আলীসহ এ পর্যন্ত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মোবাইল ফোন ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। তবে ভিডিওটি প্রথম কোথা থেকে ছড়িয়েছে, তা এখনও নিশ্চিত নয়।
আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)-এর অ্যাডভোকেট শিল্পী সাহা বলেন, “ধর্ষণের মামলায় মেডিকেল পরীক্ষা অপরিহার্য। প্রাথমিক পর্যায়ে পরীক্ষা হলে আরও কার্যকর প্রমাণ মিলত। এখনো সময় আছে, ভিকটিমের বস্ত্র ও ডিএনএ নমুনা সংরক্ষণ করা উচিত।”
কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. শারমীন সুলতানা বলেন, “আইন অনুযায়ী, ভিকটিম নারীর সম্মতি ছাড়া পরীক্ষা করা যায় না। জোর করে পরীক্ষার সুযোগ নেই।”
মুরাদনগর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এ কে এম কামরুজ্জামান বলেন, “ভুক্তভোগী নারী মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। তাকে স্বাভাবিক জীবনে ফেরাতে আমাদের সহানুভূতিশীল হতে হবে। ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়া ও ঘটনার সঙ্গে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।”
এ বিষয়ে স্থানীয় রাজনীতিক ও সমাজসেবক আলহাজ্ব গোলাম কিবরিয়া সরকার বলেন, “ধর্ষণের মতো ঘটনার ক্ষেত্রে কোনো রাজনীতি কাম্য নয়। কে কোন দলের সেটা বড় বিষয় নয়—দোষী যারাই হোক না কেন, আইনের আওতায় আসতে হবে। তবে দুঃখজনকভাবে একটি রাজনৈতিক পক্ষ অতীতের মতো এবারও বিষয়টি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছে। আমি আশা করি, পুলিশ আন্তরিকভাবে তদন্ত করে নির্যাতিতাকে ন্যায়বিচার দিতে সক্ষম হবে।”