প্রিন্ট এর তারিখঃ মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

গণপিটুনিতে মৃত্যু: সরকারের মব প্রশ্রয়ে মুরাদনগরে মা ও দুই সন্তানকে প্রকাশ্যে হত্যা

rapist 20250703 140721 0000
আজকের কথা ডেস্ক

গণপিটুনিতে মৃত্যু এখন যেন বাংলাদেশের অপরিকল্পিত বিচার ব্যবস্থার প্রতীক হয়ে উঠছে। কুমিল্লার মুরাদনগরে মাদক ব্যবসার অভিযোগে জনতার রোষে প্রাণ হারিয়েছেন এক মা ও তাঁর দুই সন্তান। প্রকাশ্য রাস্তায় পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয় তাঁদের। প্রশাসন ছিল নীরব দর্শক, আর সরকার মবকে প্রশ্রয় দেওয়ার অভিযোগে জনসমক্ষে কাঠগড়ায়।

বৃহস্পতিবার সকালে মুরাদনগর উপজেলার কড়ইবাড়ি গ্রামে ঘটে এ ভয়াবহ ঘটনা। নিহতরা হলেন গ্রামের খলিলুর রহমানের স্ত্রী রোকসানা আক্তার রুবি (৫৩), তাঁর ছেলে রাসেল মিয়া (৩৫) ও মেয়ে জোনাকি আক্তার (২৫)। গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন রোকসানার বড় মেয়ে রুমা আক্তার (৩০)।

গণপিটুনিতে মৃত্যু
গণপিটুনিতে মৃত্যু কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়—বছরের পর বছর ধরে দেশে এমন অসংখ্য হত্যাকাণ্ড ঘটছে। কুমিল্লার মুরাদনগরের করইবাড়ী গ্রামে আজ বৃহস্পতিবার সকালে বাড়ি ঘেরাও করে তিনজনকে পিটিয়ে হত্যার খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজন ভিড় করে। ছবি: সংগৃহীত

স্থানীয়দের ভাষ্য মতে, ওই পরিবারের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসার অভিযোগ বহুদিনের। সকালে দুই পক্ষের বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হলে তা দ্রুতই রূপ নেয় সহিংসতায়। উত্তেজিত জনতা লাঠি, রড ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে রোকসানাদের ওপর। প্রকাশ্য রাস্তায় শতাধিক লোকের সামনে চলে এক নারকীয় হত্যাযজ্ঞ।

মুরাদনগরের বাঙ্গরা বাজার থানার ওসি মাহফুজুর রহমান বলেন, “পরিবারটির বিরুদ্ধে মাদক–সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ছিল। এলাকাবাসীর ক্ষোভ থেকেই ঘটনাটি ঘটেছে বলে ধারণা করছি। পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।”

তবে প্রশাসনের এই বক্তব্যে সন্তুষ্ট নন স্থানীয়রা। এক বাসিন্দা প্রশ্ন তোলেন, “একটি পরিবার দিনের বেলা কুপিয়ে মেরে ফেলা হলো, অথচ পুলিশ কিছুই বুঝলো না? প্রশাসন কি শুধু ফরমায়েশি বিবৃতি দেয়ার জন্য?”

গণপিটুনিতে মৃত্যু কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়—বছরের পর বছর ধরে দেশে এমন অসংখ্য হত্যাকাণ্ড ঘটছে। কিন্তু সেগুলোর বিচার নেই বললেই চলে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মতে, “সরকার বিচারহীনতা এবং প্রশাসনিক নীরবতার মাধ্যমে এক প্রকারভাবে মব সংস্কৃতিকে উৎসাহিত করছে।”

একজন বৃদ্ধ প্রতিবেশী কাঁদতে কাঁদতে বলেন, “ওরা কি আসলেই মাদক বিক্রি করত? জানি না। কিন্তু এর চেয়ে ভয়ানক বিচার তো আমরা কখনও দেখিনি।”

এই গণপিটুনিতে মৃত্যু শুধু তিনটি প্রাণ নয়, ন্যায়বিচারের প্রতি মানুষের আস্থা ও সামাজিক সহনশীলতার ভিত্তিও ধ্বংস করেছে। সরকার ও প্রশাসনের গাফিলতিই প্রশ্নবিদ্ধ করছে—আজ যারা মারা গেল, কাল হয়তো আরও কেউ হবে এমন মব ‘বিচারের’ শিকার।

প্রিন্ট করুন