প্রিন্ট এর তারিখঃ মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

মুরাদনগরে ট্রিপল মার্ডার: দোষ স্বীকারে প্রস্তুত মূল অভিযুক্ত বাচ্চু মেম্বার

image 202570 1751802467
Mohammad Shariful Alam Chowdhury

মুরাদনগরে ট্রিপল মার্ডার মামলায় চাঞ্চল্যকর অগ্রগতি ঘটেছে। কুমিল্লার মুরাদনগরে একই পরিবারের তিনজনকে হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া বাচ্চু মেম্বার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে রাজি হয়েছেন। রোববার (৬ জুলাই) তাকে কুমিল্লার ৫ নম্বর আমলি আদালতে হাজির করা হলে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সিদ্দিক আজাদ তাঁর বক্তব্য রেকর্ডের প্রক্রিয়া শুরু করেন।

একই মামলায় এজাহারভুক্ত আরও চার আসামি—রবিউল আওয়াল (৫৫), দুলাল (৪৫), আতিকুর রহমান (৪২), বায়েজ মাস্টার (৪৩) এবং আকাশ (২৪)-কে আদালতে হাজির করে পুলিশ। আদালত তাদের জামিন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। কোর্ট পরিদর্শক ইন্সপেক্টর সাদেকুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মুরাদনগরে ট্রিপল মার্ডার
মুরাদনগরে ট্রিপল মার্ডার নিয়ে বাঙ্গরা বাজার থানার ওসি মাহফুজুর রহমান বলেন, “এ পর্যন্ত ৮ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

র‍্যাব-১১ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এইচ এম সাজ্জাদ হোসেন শনিবার (৫ জুলাই) বিকেলে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, মোবাইল চুরির অভিযোগ থেকে এই হত্যাকাণ্ডের সূত্রপাত। বাচ্চু মেম্বার শুরু থেকেই নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে জড়িত ছিলেন।

এর আগে শনিবার ভোরে সেনাবাহিনী কুমিল্লা থেকে এজাহারভুক্ত আসামি বাবুল মিয়া (৫০) ও ছবির মিয়াকে (৪৫) গ্রেপ্তার করে। এ নিয়ে মামলায় মোট আটজন গ্রেপ্তার হয়েছে। তবে রোববার সন্ধ্যা পর্যন্ত নতুন কাউকে গ্রেপ্তারের খবর নিশ্চিত করেনি পুলিশ।

মুরাদনগরে ট্রিপল মার্ডার-এর ঘটনায় নিহতদের নাম—রোকসানা বেগম ওরফে রুবি (৫৩), তার ছেলে রাসেল মিয়া (৩৫) এবং মেয়ে তাসপিয়া আক্তার ওরফে জোনাকি (২৯)। তাদেরকে ৩ জুলাই সকাল সাড়ে আটটা থেকে নয়টার মধ্যে বাঙ্গরা বাজার থানার কড়ইবাড়ী গ্রামে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়। গুরুতর আহত হন রোকসানার আরেক মেয়ে রুমা আক্তার (২৭), যিনি বর্তমানে ঢাকায় চিকিৎসাধীন।

ঘটনার পরদিন শনিবার নিহত রোকসানার বড় মেয়ে রিক্তা আক্তার বাদী হয়ে বাচ্চু মেম্বারসহ ৩৮ জনকে আসামি করে বাঙ্গরা বাজার থানায় হত্যা মামলা করেন।

উল্লেখ্য- মুরাদনগরে ট্রিপল মার্ডার নিয়ে বাঙ্গরা বাজার থানার ওসি মাহফুজুর রহমান বলেন, “এ পর্যন্ত ৮ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়।”

পুলিশের দেওয়া তথ্যমতে, গত ১১ মাসে এ উপজেলায় ১০টি খুন এবং ৩০টি ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে।

প্রিন্ট করুন