মুরাদনগরে মব সৃষ্টি করে গণপিটুনি দিয়ে হত্যা মামলায় অন্যতম অভিযুক্ত স্থানীয় ইউপি সদস্য বাচ্চু মিয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে রাজি হয়েও শেষ মুহূর্তে তা থেকে সরে দাঁড়ান। রোববার (৬ জুলাই) বিকেলে কুমিল্লা আদালতে হাজির করা হলে প্রায় আড়াই ঘণ্টা অপেক্ষার পরও তিনি মুখ না খোলায় তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন বিচারক।
গত বৃহস্পতিবার কুমিল্লার মুরাদনগরের কড়ইবাড়ি গ্রামে উন্মত্ত জনতার হামলায় একই পরিবারের তিনজন—রোকসানা বেগম (৫৩), তাঁর ছেলে রাসেল মিয়া (৩৫) এবং মেয়ে তাসপিয়া আক্তার (২৯)—নিহত হন। গুরুতর আহত হন রোকসানার আরেক মেয়ে রুমা আক্তার (২৭), যিনি বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার ছয়জনকে রোববার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে আদালতে হাজির করে বাঙ্গরা বাজার থানা পুলিশ। বিচারক পাঁচজনকে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। বাচ্চু মিয়া শুরুতে স্বীকারোক্তি দিতে আগ্রহ প্রকাশ করলেও শেষ পর্যন্ত তা না দেওয়ায় তাকেও কারাগারে পাঠানো হয়।
আদালত পুলিশের পরিদর্শক মো. সাদেকুর রহমান বলেন, “বাচ্চু মিয়া আদালতে এসে জবানবন্দি দেওয়ার আগ্রহ দেখান। কিন্তু আড়াই ঘণ্টা অপেক্ষার পর সিদ্ধান্ত বদলে ফেলেন। পরে তাঁকেও জেলে পাঠানো হয়।” এ মামলায় এখন পর্যন্ত আটজন কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
র্যাব-১১ জানিয়েছে, শুক্রবার রাত থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত রাজধানী ঢাকা ও মুরাদনগরের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, ইউপি সদস্য বাচ্চু মিয়া এই গণপিটুনি হত্যাকাণ্ডের অন্যতম পরিকল্পনাকারী। পরে তাঁদের থানায় হস্তান্তর করে মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
গ্রেপ্তার হওয়া অন্য আসামিরা হলেন—রবিউল আওয়াল, তাঁর ছেলে বায়েজ মাস্টার, বাচ্চু মিয়ার ছেলে আতিকুর রহমান, হায়দরাবাদ গ্রামের দুলাল ও তাঁর ছেলে আকাশ।
নিহতা রোকসানা বেগমের বড় মেয়ে রিক্তা আক্তার বাদী হয়ে ৩৮ জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাত আরও ২০–২৫ জনকে আসামি করে মামলা করেন। মামলার প্রধান আসামি আকুবপুর ইউপির চেয়ারম্যান শিমুল বিল্লাহ, যিনি এখনও পলাতক।
ওসি মাহফুজুর রহমান জানান, “শিমুলসহ বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে।”
মুরাদনগর মব করে গণপিটুনি হত্যা মামলার বাদী রিক্তা আক্তার আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত হয়ে সাংবাদিকদের বলেন, “আমাদের কোনো নিরাপত্তা নেই, খুনিরা এখনও ঘুরে বেড়াচ্ছে। শিমুল চেয়ারম্যান এখনো ধরা পড়েনি, সে-ই মূল হোতা।” পুলিশের দাবি, নিহতদের পরিবারের জন্য বাড়ির সামনে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে।

Mohammad Shariful Alam Chowdhury