অবৈধভাবে ভবন নির্মাণ নিয়ে এলাকাবাসীর ক্ষোভ, নীরব রাজউক!
অবৈধভাবে ভবন নির্মাণ বেড়েই চলেছে রাজধানীর তুষারধারা আবাসিক এলাকায়। অথচ রাজউকসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো যেন নিশ্চুপ দর্শকের ভূমিকা পালন করছে। মতিঝিল থেকে মাত্র ৭ কিলোমিটার দূরে, ঢাকা মহানগরীর ৬৫ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্গত কদমতলী থানাধীন ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দক্ষিণ পাশে অবস্থিত তুষারধারা আবাসিক এলাকার বিভিন্ন সেক্টরে গড়ে উঠছে একের পর এক অননুমোদিত ভবন। বিগত ২৩ জানুয়ারি ২০২৩ সালে রাজউক অভিযান চালালেও তাতে থামেনি নির্মাণ তৎপরতা।
রাজউকের ঐদিনের অভিযানে ৪নং সেক্টরের ‘ইয়েস টাওয়ার’ (১১ তলা), ৯নং সেক্টরের ‘ফ্রেন্ডস ভিউ টাওয়ার’ (৯ তলা) এবং ‘হাবিবা টাওয়ার’-সহ বেশ কিছু ভবনের বর্ধিত অংশ ভেঙে দেওয়া হয়। বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে মিটার জব্দ করে নেওয়া হয়। ফ্রেন্ডস ভিউ টাওয়ারের তৃতীয় তলার সিঁড়ি কেটে ফেলে এবং কেয়ারটেকারকে আটক করে নিয়ে যায় রাজউক কর্মকর্তারা।

এর আগে ২০২২ সালের ২২ ডিসেম্বর, তুষারধারা আবাসিক এলাকার আরও বহু ভবনে এমনই অভিযান পরিচালনা করে রাজউক। সেদিন পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ রয়েছে, ভবন মালিকদের ভয়ভীতি দেখিয়ে মোটা অঙ্কের ঘুষ আদায় করা হয়। পরবর্তীতে ভাঙা ভবনগুলো নতুনভাবে বর্ধিত করে আবার নির্মাণ করা হয়, যা সরেজমিনে দেখলে যে কেউ বুঝতে পারবে।
তুষারধারায় ভবন নির্মাণে জবাবদিহির বাইরে ডেভেলপাররা!
দুর্নীতির বিরুদ্ধে দুদকে একাধিক অভিযোগ দায়ের করা হলেও মেলেনি প্রতিকার। বরং রাজউক, দুদক, সিটি কর্পোরেশন, ডিপিডিসি, ওয়াসা ও পুলিশের একটি চক্র ম্যানেজ করে অবৈধভাবে ভবন নির্মাণ করে যাচ্ছে কিছু প্রভাবশালী ডেভেলপার কোম্পানি। সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সহযোগিতায় নিরীহ সাধারণ মানুষকে প্রতারিত করে বিক্রি করা হচ্ছে অননুমোদিত ফ্ল্যাট।
২০২২ সালের ডিসেম্বর মাসে মাতুয়াইল শিশু মাতৃ স্বাস্থ্য ইন্সটিটিউট এর পূর্ব পাশে শামীমবাগ থেকে শুরু করে নারায়ণগঞ্জের শহীদ নগর পর্যন্ত এলাকাতেও একই কায়দায় অভিযান চালানো হয়। বাস্তবে যেসব রোড ২৫ ফুট, সেগুলো ড্যাপে ৬০ ফুট দেখানো হয়েছে। ফলে দখল-ভাঙচুরের নামে সেখানে রাজউক নিরীহ মানুষের জীবন-জীবিকা ধ্বংস করেছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাজউকের পরিকল্পনা প্রণয়ন শাখার নগর পরিকল্পনাবিদ মিসেস মাহফুজা আক্তার বলেন, “রাজউক সবসময়ই অননুমোদিত ভবন নির্মাণ ও ভূমি ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে সচেষ্ট। তবে কিছু অসাধু ব্যক্তি এবং ডেভেলপার কোম্পানির কারণে তুষারধারা আবাসিক এলাকায় বেশ কিছু অনিয়ম হয়েছে—এ বিষয়ে আমরা অবগত আছি এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছি। আমাদের লক্ষ্য হলো একটি পরিকল্পিত, বাসযোগ্য এবং নিরাপদ ঢাকা গড়ে তোলা। কেউ নিয়ম ভেঙে থাকলে তাকে অবশ্যই আইনের আওতায় আনা হবে। তবে নাগরিকদেরও সচেতন হতে হবে—ফ্ল্যাট বা জমি কেনার আগে অনুমোদনের বিষয়টি যাচাই করা জরুরি।”
অবৈধভাবে ভবন নির্মাণ রাজউকের পৃষ্ঠপোষকতায় যেন নিয়মিত বাণিজ্যে পরিণত হয়েছে। তুষারধারা আবাসিক এলাকায় এই অনিয়ম ও দুর্নীতির পেছনে রয়েছে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট। একদিকে ঘুষ দিয়ে অনুমোদন ছাড়াই ভবন নির্মাণ, অন্যদিকে সেই ভবনের বিরুদ্ধে পুনরায় অভিযান চালিয়ে আবার ঘুষ আদায়—চক্রাকার দুর্নীতির এই চিত্র দেখে মনে হয়, রাজধানীতে যেন আইনের শাসন একেবারেই গায়েব হয়ে গেছে!

আজকের কথা ডেস্ক