প্রিন্ট এর তারিখঃ রবিবার, ৭ জুন ২০২৬, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

মুরাদনগরে ধর্ষককে বিএনপি নেতা বলায় সাংবাদিকের বিরুদ্ধে এক হাজার কোটি টাকার মানহানি মামলা

20250709 224128 0000 1
ফাহিমা বেগম প্রিয়া

ধর্ষণ মামলা ঘিরে বিতর্কিত সংবাদ প্রকাশের জেরে রাজনৈতিক পরিচয় ঘিরে উত্তেজনা, বিএনপি নেতার দাবি—ধর্ষক নয়, তিনি আওয়ামী লীগের কর্মী, মামলা করলেন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে।

ধর্ষণ মামলা ও বিতর্কিত সংবাদ
মুরাদনগরে ধর্ষককে বিএনপি নেতা বলায় সাংবাদিকের বিরুদ্ধে এক হাজার কোটি টাকার মানহানি মামলা। ছবি : আজকের কথা

মুরাদনগরে ধর্ষণ মামলা ঘিরে রাজনৈতিক ও সাংবাদিক মহলে উত্তেজনা বিরাজ করছে। কুমিল্লার মুরাদনগরে সংঘটিত ধর্ষণ মামলার একমাত্র আসামি ফজর আলীকে বিএনপি নেতা হিসেবে উল্লেখ করে সংবাদ প্রকাশ করায়, একজন স্থানীয় সাংবাদিকের বিরুদ্ধে কুমিল্লার আদালতে এক হাজার কোটি টাকার মানহানির মামলা দায়ের করা হয়েছে।

সোমবার (৮ জুলাই) কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-১১-এর বিচারক মমিনুল হকের আদালতে এই মামলা করেন মুরাদনগর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক কামাল উদ্দিন ভূঁইয়া। বুধবার বিকেলে বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে মুরাদনগর ও সাংবাদিক সমাজে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়।

মামলার এজাহারে বলা হয়, সাংবাদিক মাহবুব আলম (আরিফ) তার পরিচালিত “মুরাদনগর লাইভ টিভি” নামের একটি ফেসবুক পেজে ধর্ষণ মামলার আসামি ফজর আলীকে বিএনপি নেতা বলে উল্লেখ করেন, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও মানহানিকর। বাদীর দাবি, ফজর আলী ও তার পরিবার কখনোই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না।

এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়—”মিথ্যা সংবাদ প্রচারের মাধ্যমে সাংবাদিক মাহবুব আলম শুধু একজন ব্যক্তির না, পুরো বিএনপির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করেছেন। এতে দলে রাজনৈতিকভাবে ও আর্থসামাজিকভাবে এক হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।”

মামলার বাদী কামাল উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, “কোনো ব্যক্তিকে বিএনপির নেতা দাবি করলে তার পদ-পদবি থাকতে হবে। অথচ ফজর আলীর কোনো পদ নেই, এমনকি প্রাথমিক সদস্যপদও না। তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতি করেন এবং তা তার বাবা সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ্যেই বলেছেন।”

ধর্ষণ মামলা- ঘূর্ণিপাকে রাজনৈতিক পরিচয় বিতর্ক, সাংবাদিক বলছেন—স্থানীয়দের বক্তব্যের ভিত্তিতেই সংবাদ, তা কখনো বিতর্কিত সংবাদ প্রকাশ বলে অভিযোগ হতে পারেনা

এ বিষয়ে অভিযুক্ত সাংবাদিক মাহবুব আলম বলেন, “আমি স্থানীয়দের সরাসরি বক্তব্যের ভিত্তিতে রিপোর্ট করেছি। এলাকাবাসীর অনেকে ফজর আলীকে বিএনপি-ঘনিষ্ঠ বলছেন। তাছাড়া ২০২৪ সালের ১৪ ডিসেম্বর রামচন্দ্রপুর দক্ষিণ ইউনিয়ন বিএনপির কার্যালয় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ফজর আলীকে সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে উপস্থিত দেখা গেছে, যার ভিডিও ও ছবিসহ আমার কাছে প্রমাণ আছে।”

সাংবাদিক আরো বলেন, “আমি স্থানীয়দের বক্তব্যের ভিত্তিতে সংবাদ প্রকাশ করেছি।” তবে, মামলার বাদীর দাবি—আসামির রাজনৈতিক পরিচয় মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

এ মামলায় আদালত প্রাথমিক শুনানি শেষে ১৮ আগস্ট সাংবাদিক মাহবুব আলমকে আদালতে হাজির হতে সমন জারি করেছে। মামলাটি এখন মুরাদনগরবাসী, সাংবাদিক মহল এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রে।

যদিও, মুরাদনগর ধর্ষণ মামলা এখন আর শুধু একটি ফৌজদারি অপরাধ নয়, এটি এক স্পর্শকাতর রাজনৈতিক ও সাংবাদিকতার স্বাধীনতা সম্পর্কিত ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। সাংবাদিকরা যখন জনমত ও তথ্যসূত্রের ভিত্তিতে প্রতিবেদন তৈরি করেন, তখন সত্য-মিথ্যার সীমারেখা কোথায়, সেটি নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়। তবে মানহানির মামলা দিয়ে সাংবাদিকদের হুমকি দেওয়া বা ভয় দেখানো হলে তা মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে ক্ষুণ্ণ করতে পারে। একইসঙ্গে সাংবাদিকদেরও উচিত—তথ্য যাচাই করে, রাজনৈতিক পরিচয় নিশ্চিত করে প্রতিবেদন প্রকাশ করা।

প্রিন্ট করুন