ফসল তোলার সময় টানা বৃষ্টিতে চরের করলা-মুলা-লাউসহ সবজির জমি তলিয়ে গেছে, কাঁদছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা
ফসল তোলার মুহূর্তে এসে ভয়াবহ বিপদের মুখে পড়েছেন কুমিল্লার গোমতী নদী তীরবর্তী চরাঞ্চলের কৃষকরা। গত কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ এবং ভারতের ত্রিপুরা থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের ফলে গোমতী নদীর পানি বাড়তে থাকায় প্লাবিত হয়েছে কৃষকদের সবজি ও ফলনের মাঠ।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, এ পর্যন্ত চরের প্রায় ১১ হাজার হেক্টর কৃষিজমি পানিতে তলিয়ে গেছে। বিশেষ করে করলা, মুলা, লাউ, মিষ্টি কুমড়া, মরিচ, ধনেপাতা ইত্যাদি ফলনের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

আমতলী এলাকার কৃষক আমজত আলী বলেন, “৩ একর জমিতে করলা ও নানা সবজি চাষ করেছিলাম। আর মাত্র দুইদিন সময় পেলেই ফসল তুলতে পারতাম। সবই তলিয়ে গেছে। প্রায় ১২ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।”
কাচিয়াতলীর কৃষক আমির হোসেন বলেন, “গতবারের বন্যায় ক্ষতিপূরণ পাইনি। এবারও ফসল সব পানির নিচে। কিছু করলা তুলেছি, বাকিটা গেছে।”
মুরাদনগর থেকে জমি পত্তনে এসে চাষ করা পাঁচথুবী এলাকার কৃষানী রিজিয়া বেগম ও জায়েদা আক্তার বলেন, “৬ ফুট পানির নিচে মরিচ, ধনেপাতা, কুমড়া—সব গেছে। মাচার কিছু করলা নৌকায় করে তুলছি, বাকি কিছুই বাঁচেনি।”
এদিকে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আইউব মাহমুদ বলেন, “বন্যার পানি কমে গেলে ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র জানা যাবে। সরকার বরাদ্দ দিলে ক্ষতিগ্রস্তরা সহায়তা পাবে।”
অপরদিকে পাউবো নির্বাহী প্রকৌশলী খান মোহাম্মদ ওয়ালিউজ্জামান বলেন, “বিপৎসীমা ১১.৩০ মিটার হলেও ৬–৮ মিটার পানি হলেই চর তলিয়ে যায়। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় গোমতীর পানি ছিল ৯.৪৮ মিটার।” তবে কারা কি ক্ষতিগ্রস্তের সহায়তা পাবেন তা তিনি জানেন না।

রোমানা আক্তার