

গুণবতী খাল খনন—এই প্রকল্পের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের ভোগান্তি শেষে অবশেষে স্বস্তির মুখ দেখতে শুরু করেছে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার গুণবতী ইউনিয়নের ৩০-৪০টি হিন্দু পরিবার। আজ বৃহস্পতিবার (১১ জুলাই) থেকে শুরু হয়েছে উপজেলা প্রশাসনের বাস্তবায়নে ‘চাঁপাচৌ খাল খনন ও পরিষ্কার প্রকল্প’। এই উদ্যোগের মাধ্যমে স্থায়ী পানিবন্দী অবস্থার অবসান ঘটবে বলে আশাবাদী স্থানীয়রা।

গত ১০ জুলাই ২০২৫ তারিখে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) জামাল হোসেন সরেজমিনে ওই ইউনিয়নে পরিদর্শনে যান। তিনি দেখতে পান, প্রায় ৩০ থেকে ৪০টি হিন্দু পরিবার পানিবন্দী অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চাঁপাচৌ খালটি ভরাট ও অবৈধ দখলের ফলে গত কয়েক বছর ধরে এলাকাটি জলাবদ্ধতার শিকার। খালটির প্রাকৃতিক আউটফল ডাকাতিয়া নদীতে হওয়ায় স্বাভাবিকভাবে পানি নিষ্কাশনের কথা, কিন্তু দখল ও ভরাটের কারণে সেই প্রবাহ বন্ধ হয়ে গেছে।
জনগণের দুর্ভোগ লাঘবে উপজেলা প্রশাসন জরুরি ভিত্তিতে ওই সংস্কারের সিদ্ধান্ত নেয়। আজ ১১ জুলাই থেকে কার্যক্রম শুরু হয়। এতে অংশগ্রহণ করছেন গুণবতী ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান, সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড মেম্বার, স্থানীয় বাসিন্দা ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ। কাজ চলছে পুরোদমে।
📢 প্রশাসনের বক্তব্য
চৌদ্দগ্রাম উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, এই প্রকল্প শুধু জলাবদ্ধতা নিরসনেই নয়, সম্ভাব্য বন্যার আশঙ্কাও কমাবে। তাই তারা সকল নাগরিকের সহায়তা ও দায়িত্বশীল অংশগ্রহণ কামনা করেছেন।
গুণবতী খাল খনন প্রকল্পের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা ও বন্যা ঝুঁকি মোকাবিলায় চৌদ্দগ্রাম উপজেলা প্রশাসন কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছে। এলাকাবাসী আশা করছেন, এই উদ্যোগেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান মিলবে।
গুণবতীতে খাল খনন প্রকল্প এক প্রশংসনীয় উদ্যোগ। দীর্ঘদিন পানিবন্দী থাকা হিন্দু পরিবারগুলোর দুর্ভোগ লাঘবে এটি হবে একটি টার্নিং পয়েন্ট। প্রশাসনের দ্রুত এ পদক্ষেপ ও জনসচেতনতাই এই প্রকল্পকে আরো সফল করতে পারে। এটি যেন অন্য ভুক্তভোগী এলাকাতেও উদাহরণ হয়ে দাঁড়ায়।