১০ মাসে ৩,৫৫৪ খুন, ৪,১০৫ ধর্ষণ, ৮১৯ অপহরণ: সরকারি হিসাব বনাম বাস্তব চিত্র—পরিসংখ্যান বলছে স্থিতিশীল, বাস্তব বলছে বিপরীত?
১০ মাসে ৩,৫৫৪ খুন, ৪,১০৫ ধর্ষণ, ৮১৯ অপহরণ—বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে বড় অপরাধের এমন ভয়াবহ চিত্র জনমনে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রথম পাতায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত সময়কালে দেশে ৩,৫৫৪টি খুন, ১২,৭২৬টি নারী ও শিশু নির্যাতন, ৪,১০৫টি ধর্ষণ, ৮১৯টি অপহরণ এবং ৯৭টি দাঙ্গার ঘটনা ঘটেছে। সেইসঙ্গে মাদক, চুরিচামারি ও ডাকাতির মতো অপরাধেও ভয়াবহ উর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা গেছে।
পুলিশ সদর দপ্তরের বরাতে গতকাল প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গত ১০ মাসে বড় ধরনের অপরাধের প্রবণতা স্থিতিশীল রয়েছে। বিবৃতিতে গণমাধ্যমে প্রকাশিত আতঙ্কজনক খবরকে ‘আংশিক বা বিভ্রান্তিকর’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও জানানো হয়, সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ৬ মাসে ১,৯৩৩টি খুন, ২,৭৪৪টি ধর্ষণ, ৫১৭টি অপহরণ এবং ৩৬৭টি ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। অন্যদিকে ২০২৪ সালের পুরো বছরজুড়ে খুনের সংখ্যা ছিল ৪,১১৪টি এবং ধর্ষণ ৪,৩৯৪টি। এতে বোঝা যায়, কিছু ক্ষেত্রে অপরাধ কমলেও সামগ্রিক পরিস্থিতি উদ্বেগজনকই রয়ে গেছে।

সরকারি বিবৃতিতে পরিস্থিতিকে ‘নিয়ন্ত্রণে’ বলা হলেও, বাস্তব চিত্র ভিন্ন কথা বলছে। নাগরিকরা বলছেন, একের পর এক খুন, ধর্ষণ বা অপহরণের ঘটনায় তাঁরা আতঙ্কিত ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
১০ মাসে ৩,৫৫৪ খুন, ৪,১০৫ ধর্ষণ, ৮১৯ অপহরণ—এই সংখ্যা শুধু পরিসংখ্যান নয়, বরং দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কঠোর বাস্তবতা। পুলিশের বক্তব্যে ‘স্থিতিশীলতা’র দাবি থাকলেও, দিন শেষে আতঙ্কটাই যেন বেশি স্পষ্ট।

ফাহিমা বেগম প্রিয়া