বিদেশি মালিকানা উন্মুক্ত চেয়ে জ্বালানি, টেলিকম ও বীমা খাতে শতভাগ নিয়ন্ত্রণের দাবি; বাংলাদেশ বলছে “চাপ নয়, চুক্তি চাই”
বিদেশি মালিকানা উন্মুক্ত করার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের চাপ সম্প্রতি নতুন মাত্রা পেয়েছে। ইন্দো-প্যাসিফিক বাণিজ্য সংলাপে মার্কিন প্রতিনিধি দল জ্বালানি, টেলিকম এবং বীমা খাতে শতভাগ বিদেশি মালিকানা অনুমোদনের আহ্বান জানিয়েছে। এতে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ও কৌশলগত নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র বলছে—যদি বিদেশি বিনিয়োগ আনতে হয়, তবে বিদেশি কোম্পানিগুলোকে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ দিতে হবে। টেলিকম খাতে অপারেটরদের ওপর নিয়ন্ত্রণ, বিদ্যুৎ উৎপাদন কোম্পানিগুলোর নীতিনির্ধারণ এবং ইনফ্রাস্ট্রাকচার ব্যবস্থাপনায় মালিকানা অধিকার ছাড়তে হবে।
তবে অর্থনীতিবিদ ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, এসব খাতে নিয়ন্ত্রণ হারালে তা শুধু বাজার নয়, গোটা দেশের নিরাপত্তা, তথ্য প্রবাহ ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতায় প্রভাব ফেলবে। অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তান একই পথে হেঁটে পরে চরম সংকটে পড়েছে।
বর্তমানে বাংলাদেশে বিদেশি মালিকানার সীমা রয়েছে—টেলিকম খাতে ৪০%-৬০%। বীমা ও বিদ্যুৎ খাতেও রয়েছে নিয়ন্ত্রিত সীমা। এসব সীমা তুলে দেওয়ার বিষয়ে সরকার এখনো নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়নি। তবে বিষয়টি আলোচনা পর্যায়ে রয়েছে বলে জানিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয় ও বিইআরসি (বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন)।
বিশ্লেষকরা আরও বলছেন, “বিদেশি বিনিয়োগের দরজা খোলা রাখতে হবে ঠিকই, তবে মালিকানা নয়—‘পারফরম্যান্স’ ভিত্তিক অংশীদারিত্ব মডেল নিয়ে ভাবা উচিত।” এক্ষেত্রে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (PPP) মডেল হতে পারে গ্রহণযোগ্য বিকল্প।
রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, “বিদেশি কোম্পানির হাতে টেলিকম নেটওয়ার্ক বা বিদ্যুৎ গ্রিড গেলে, সেটা শুধু আর্থিক নয়—একটি জিওপলিটিকাল হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।”
বিদেশি মালিকানা উন্মুক্ত বিষয়ে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের একটি টাস্কফোর্স গঠন প্রক্রিয়াধীন, যারা বিষয়টি জাতীয় স্বার্থ, অর্থনৈতিক সম্ভাবনা এবং নিরাপত্তা পরিপ্রেক্ষিতে মূল্যায়ন করবে।
👉 পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে?
বাংলাদেশ কি যুক্তরাষ্ট্রের দাবি মেনে নেবে, নাকি নিজের কৌশলগত স্বাধীনতা বজায় রাখবে? সময়ই বলে দেবে।

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী