প্রিন্ট এর তারিখঃ বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ২ আষাঢ় ১৪৩৩

কুমিল্লার জলাধার দখল, নগর উন্নয়নের নামে প্রাকৃতিক ভারসাম্য ধ্বংস

687dd483108f2 1
মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী

কুমিল্লার জলাধার দখল- শুরুতেই পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমোদন ছাড়াই প্রকল্প বাস্তবায়ন; হুমকির মুখে জীববৈচিত্র ও ভূগর্ভস্থ পানি

কুমিল্লার জলাধার দখল নিয়ে নগরবাসীর মধ্যে বাড়ছে উদ্বেগ। কুমিল্লা নগর উন্নয়নের নামে একের পর এক ভরাট হচ্ছে জলাধার, পুকুর ও খাল। গড়ে উঠছে বহুতল ভবন ও সরকারি আবাসন প্রকল্প, কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই নেই পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমোদন। এতে করে নষ্ট হচ্ছে প্রাকৃতিক ভারসাম্য ও তৈরি হচ্ছে জলাবদ্ধতা।

কুমিল্লার কালিয়াজুড়ি মৌজায় এক সময় যেখানে ছিল অতিথি পাখির কলকাকলি, আজ সেখানে উঠে গেছে সুউচ্চ ভবন। কারারক্ষীদের জন্য নির্মাণাধীন আবাসন প্রকল্পটি অনুমোদন ছাড়াই চলছে। স্থানীয়রা বলছেন, একটুখানি বৃষ্টি হলেই তৈরি হয় জলাবদ্ধতা। এলাকাবাসীর দাবি, এখানে একটি গভীর ড্রেন তৈরি করতে হবে।

কুমিল্লার জলাধার দখল
কুমিল্লার জলাধার দখল ২০২৫ নিয়ে নাগরিক সমাজ প্রশ্ন তুলছে—এই উন্নয়ন কার জন্য? এখনই যদি কঠোর ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তাহলে কুমিল্লার পরিবেশ বিপর্যয় হয়ে উঠবে অনিবার্য।

সাহিত্যিক জহিরুল হক দুলাল বলেন, রেইসকোর্সের বিশাল জলাভূমি প্রাকৃতিক ভারসাম্যের রক্ষাকবচ ছিল। আজ সেখানেও অনুমোদন ছাড়াই গড়ে উঠছে স্থাপনা। গণপূর্ত বিভাগ প্রকল্প বাস্তবায়ন করলেও পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নেওয়া হয়নি বলে জানান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা।

শুধু সরকারি প্রকল্পই নয়, সাহাপাড়ার লস্করপুকুরও দখলের শিকার। প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় গড়ে উঠেছে অবৈধ বাড়িঘর, যা পরিবেশ বিপর্যয়ের ঝুঁকি বাড়িয়েছে। এলাকাবাসী এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি চান না।

গত ১৪ বছরে কুমিল্লার অগণিত জলাধার ভরাট হয়েছে, অথচ পরিবেশ অধিদপ্তর করেছে মাত্র ৮টি মামলা—তাও নিষ্ক্রিয়। উদ্বেগের বিষয়, এখনো নেই কোনো সুনির্দিষ্ট জলাধার তালিকা। ফলে হুমকির মুখে পড়েছে ভূগর্ভস্থ পানি ও জীববৈচিত্র।

জেলা প্রশাসক আমিরুল কায়ছার বলেন, তিনি জলাধার দখলের বেশ কিছু প্রচেষ্টা বন্ধ করেছেন। এমনকি সরকারি প্রতিষ্ঠানও হলে ব্যবস্থা নিয়েছেন। তিনি জানান, ভবিষ্যৎ প্রয়োগ করে জলাধার রক্ষা করতে হবে।

কুমিল্লার জলাধার দখল নিয়ে নাগরিক সমাজ প্রশ্ন তুলছে—এই উন্নয়ন কার জন্য? এখনই যদি কঠোর ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তাহলে কুমিল্লার পরিবেশ বিপর্যয় হয়ে উঠবে অনিবার্য।

📢 আপনার করণীয় কী?

✅ কুমিল্লার পরিবেশ রক্ষায় সচেতন হোন
✅ জলাধার দখলের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলুন
✅ স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করুন
✅ সামাজিক মাধ্যমে প্রতিবাদ জানান
✅ প্রজন্মকে রক্ষা করতে এখনই উদ্যোগ নিন!

🔗 আপনার মতামত দিন, শেয়ার করুন প্রতিবেদনটি — সচেতনতা ছড়াক, জলাধার বাঁচুক।

প্রিন্ট করুন