প্রিন্ট এর তারিখঃ শনিবার, ৬ জুন ২০২৬, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

গারো পাহাড়ে বন্য হাতি বাড়ছে, আতঙ্কে মানুষ: প্রাণ গেল ৫৩ জনের

IMG 20250723 WA0000
মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী

গারো পাহাড়ে বন্য হাতি- প্রাণ গেল ৫৩ জনের শেরপুর, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনায় হাতির আক্রমণ ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে, বনবিভাগ সতর্ক

গারো পাহাড়ে বন্য হাতি বাড়ছে, বাড়ছে প্রাণঘাতী সংঘাতও। বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তবর্তী শেরপুর জেলার গারো পাহাড়ে বনবিভাগের তথ্য অনুযায়ী গত দুই বছরে কমপক্ষে ৫০টির মতো হাতির শাবক জন্ম নিয়েছে। এক দশক আগে যেখানে ১০০-১২০টি হাতি ছিল, এখন সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৭০-১৮০টির মধ্যে।

বন কর্মকর্তারা জানান, হাতির জন্য অনুকূল আবাসস্থল হওয়ায় প্রজনন বৃদ্ধি পেয়েছে। চলতি বছরেই প্রায় ৫০টি হাতির বাচ্চা জন্মের তথ্য রয়েছে। ড্রোন ক্যামেরায় দেখা গেছে, ৩৪টি হাতির একটি পালে ৮-১০টি শাবক রয়েছে।

শ্রীবরদী উপজেলার বালিজুরি রেঞ্জে তিনটি আলাদা পাল রয়েছে, প্রতিটিতে গড়ে ৩০-৩৫টি হাতি এবং ৭-৮টি শাবক রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বন বিভাগ ২০১৪ সাল থেকে ৫০০ হেক্টর এলাকায় খাদ্যবান্ধব গাছ রোপণ করেছে, যা এই বৃদ্ধি সহায়তা করেছে।

প্রাণহানির ভয়াবহ তথ্য

তবে হাতির সংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে মানুষ-হাতি দ্বন্দ্ব ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। ২০১৪ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, জামালপুর ও শেরপুর জেলায় হাতির আক্রমণে মারা গেছেন ৫৩ জন। এর মধ্যে শুধু শেরপুরেই প্রাণ গেছে ২৫-৩০ জনের। বিপরীতে মানুষের হাতে মারা গেছে ৩২টি হাতি, যার মধ্যে ২৭-২৮টি শেরপুরেই।

২০২১ সালের ১২ নভেম্বর এবং ২০২৫ সালের ১ নভেম্বর দুটি হাতি হত্যার ঘটনায় বনপ্রাণী আইনে মামলা হয়েছে।

প্রতিরোধে উদ্যোগ ও চ্যালেঞ্জ

রাংটিয়া রেঞ্জ অফিসার আব্দুল করিম জানান, মানুষ-হাতি সংঘাত কমাতে স্থানীয়দের নিয়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম চলছে। স্থানীয়রা কৌশলে হাতি তাড়িয়ে প্রাণহানির ঝুঁকি কমানোর চেষ্টা করছেন।

ঝিনাইগাতী ইউএনও আশরাফুল আলম রাসেল বলেন, সরকার নিহতের পরিবারকে ৩ লাখ, আহতদের ১ লাখ এবং ফসল ক্ষতির জন্য ৫০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দিচ্ছে।

সমাধানের পথ

গারো পাহাড়ে বন্য হাতি বাড়ছে, যা একটি প্রাকৃতিক সাফল্যের বার্তা বটে। তবে মানুষের জীবন ও জীবিকা সুরক্ষায় আরও গবেষণা, প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি এবং সীমান্ত এলাকায় ব্যাপক সচেতনতা বৃদ্ধিই পারে এই দ্বন্দ্ব কমাতে।

প্রিন্ট করুন