উত্তরা মাইলস্টোন দূর্ঘটনা শিশুদের এই মৃত্যু শুধুই দুর্ঘটনা নয়, এটি রাষ্ট্রের দায়িত্বহীনতার চরম উদাহরণ।
উত্তরা মাইলস্টোন দুর্ঘটনা যে ঘটেছে, তা কেবল একটি বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার খবর নয়—এটি আমাদের রাষ্ট্রীয় অবহেলার এক রক্তাক্ত প্রমাণ। সেখানে কেবল লোহা-পাথরের ধ্বংস হয়নি, নিভে গেছে অগণিত সম্ভাবনার আলো, ছাই হয়েছে শিশুর স্বপ্ন।
একটি প্রশিক্ষণ বিমান—যার নিয়ন্ত্রণে ছিল একজন তরুণ পাইলট—কীভাবে রাজধানীর সবচেয়ে জনবহুল ও শিক্ষার্থীদের পূর্ণ একটি ভবনের ওপর ভেঙে পড়ে? এমন কী পরিস্থিতি ছিল, যে বিকেলবেলা স্কুল চলাকালীন সময়েও একটি যুদ্ধবিমান ওই এলাকায় উড়তে পারে? প্রশ্নগুলো সহজ, উত্তরগুলো অস্বস্তিকর।

আমরা যখন ফেসবুকে শিক্ষিকার স্ট্যাটাস দেখি—যেখানে তিনি বর্ণনা করেছেন, কীভাবে ছাত্রদের গায়ে আগুন জ্বলছিল, কীভাবে সহকর্মীরা পুড়ে তার সামনে পড়ে গিয়েছিল—তখন চোখে জল আসে, কিন্তু প্রশাসনের ভাষায় শোনা যায়: “প্রশিক্ষণ চলছিল, দুর্ঘটনা হয়েছে।”
না, এটি কেবল দুর্ঘটনা নয়। এটি একটি সুপরিকল্পিত অবহেলার ফল, যেখানে জনগণের নিরাপত্তা, শিশুদের জীবন—সবই তুচ্ছ।
প্রতিবারই আমরা দেখি, দুর্ঘটনার পরে প্রশাসনিক আশ্বাস, রাষ্ট্রীয় শোক, ক্ষতিপূরণের ঘোষণায় আমরা চাপা দিই গণবিধ্বস্ত বাস্তবতাকে। অথচ, প্রশ্ন থেকেই যায়—জনবহুল এলাকায় বারবার কেন প্রশিক্ষণ বিমান ওড়ানো হয়?
প্রসঙ্গত, ২০১৭, ২০২৩, এবং সর্বশেষ ২০২৫—এই তিন বছরেই বাংলাদেশে একই মডেলের বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। কারও জবাবদিহি হয়নি, কোনো সিস্টেম পাল্টায়নি।
এই ঘটনার দায় কে নেবে? পাইলট? প্রশাসন? নাকি রাষ্ট্র? না কি আমরা সবাই মিলে এই শোককে আরও একটি সংখ্যা বানিয়ে ভুলে যাব?
আমরা ভুলে যাচ্ছি, যেসব বাবা-মা শিশুর লাশ কাঁধে নিয়ে ঘরে ফিরছেন—তাদের শোককে কোনো ভাষা উপশম দিতে পারবে না। আর রাষ্ট্র যদি চুপচাপ থেকে যায়, তাহলে শুধু বিমান না, মানুষের বিশ্বাসও একদিন ভেঙে পড়বে।
এখনই সময়—প্রশিক্ষণ নীতিমালা, উড্ডয়ন এলাকা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা—সবকিছুর তদন্ত করার। নয়তো আগামী দুর্ঘটনার জন্য প্রস্তুত থাকুন।
লেখক : মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী
সাংবাদিক, মুক্তিযুদ্ধের গবেষক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক
📧 sharifulchowdhury81@gmail.com
মুঠোফোন : +৮৮০১৭১১৩৮৩৬৫৮
উত্তরা মাইলস্টোন দুর্ঘটনা আমাদের রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতার নিষ্ঠুর প্রতিচ্ছবি, তাতে কারোর কোন সন্দেহ থাকার অবকাশ নেই।

আজকের কথা ডেস্ক