প্রিন্ট এর তারিখঃ সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

❝শোকের মুখোশে উৎসব: এনসিপি কি ছায়া প্রশাসনের নাম?❞

FB IMG 1753226619112
মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী

মতামত

বাংলাদেশ সরকার যখন শিশু ও ছাত্রদের মর্মান্তিক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে জাতীয়ভাবে শোক প্রকাশে নিমগ্ন থাকার কথা, তখন একদল রাজনৈতিক নেতা ও সরকারি উপদেষ্টা একটি অনুষ্ঠানে হাস্যজ্জ্বল মুখে দাঁড়িয়ে থাকেন—এই চিত্র নিঃসন্দেহে জনমনে বিভ্রান্তি ও ক্ষোভের জন্ম দেয়।

ছবিটির দিকে নজর দিলে দেখা যায়—সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও একটি অনিবন্ধিত রাজনৈতিক গোষ্ঠী এনসিপি-র কোনো নেতার গলায় অফিসিয়াল আইডি কার্ড নেই।
অথচ তারা একটি প্রায়-সরকারি বৈঠকে অংশ নিয়েছেন—সরকারি ভাষ্য অনুযায়ী ‘সংশ্লিষ্ট মহলের অনুমোদনপ্রাপ্ত’ হয়েও।

মূল প্রশ্নটি এখানেই—নিবন্ধনহীন ও সাংবিধানিক স্বীকৃতিহীন একটি গোষ্ঠী কিভাবে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় অংশ নেয়?

এনসিপি এখনো নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত কোনো রাজনৈতিক দল নয়। ফলে তাদের দলীয় পরিচয় রাষ্ট্রীয়ভাবে গ্রহণযোগ্য নয়—এই বাস্তবতায় তাদেরকে “রাজনৈতিক দল” বলাও ভুল।

তাহলে প্রশ্ন থেকেই যায়—
🔴 এনসিপি কি আসলেই কোনো সরকারি সংস্থা?
🔴 নাকি এটা সরকার ব্যবস্থার ছত্রছায়ায় গড়ে ওঠা একটি ছায়া প্রশাসন, যাদের কার্যক্রম দায়বদ্ধতার বাইরে?

শিশু ও ছাত্রদের মৃত্যুর শোককে ঘিরে পুরো জাতি যখন বিমর্ষ, তখন এই রকম উৎসবমুখর উপস্থিতি রাষ্ট্রের নৈতিক অবস্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। শোক কি তবে শুধুই আনুষ্ঠানিকতা?
নাকি এটা শুধুমাত্র জনতার অনুভূতিকে পুঁজি করে রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে ধোঁয়াশায় রাখার একটি কৌশল?

এনসিপি-র প্রকৃতি, অবস্থান ও দায়বদ্ধতা—এই প্রশ্নগুলো আজ উত্তরহীন।
আর এই অনুলিখিত প্রশ্নের জবাব চায় এই দেশের নাগরিক সমাজ।

🔎 সম্পাদকীয় নোট:
এটি একটি মতামতধর্মী বিশ্লেষণ। এই প্রতিবেদন এনসিপি বা সংশ্লিষ্ট কারো অবস্থান ব্যাখ্যার সুযোগ স্বীকার করে। দয়া করে ভিন্নমত জানাতে info@dainikajkerkotha.com এ যোগাযোগ করুন।

প্রিন্ট করুন