

মাইলস্টোন কলেজ অগ্নিকাণ্ড নিয়ে সাংবাদিক গোলাম রাব্বী প্লাবনের পরিদর্শনের পর দেওয়া ফেসবুক স্টেটাস সামাজিক মাধ্যমে দারুণ আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
তিনি লিখেছেন:
“ক্লাসরুমের ভেতরে-বাইরে কাঠ, টিন, ফ্যান—সবকিছু যেভাবে পুড়ে অঙ্গার হয়ে গেছে, তা দেখে গা শিউরে ওঠে। সেখানে কচি কচি শিশুরা কী পরিমাণ কষ্ট পেয়ে দুনিয়া ছেড়ে চলে গেছে, তা ভাবতেই পারছি না। আর কত লাশ দেখলে জাতির বোদ্ধারা হুঁশে ফিরবে, আমার জানা নেই।”
এই স্টেটাস যেন মাইলস্টোন কলেজ অগ্নিকাণ্ড-এর ব্যর্থতা, অবহেলা এবং মর্মান্তিক বাস্তবতাকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়।

মাইলস্টোন কলেজ অগ্নিকাণ্ড শুধু একটি দুর্ঘটনা নয়, এটি আমাদের সামষ্টিক ব্যর্থতার নগ্ন বহিঃপ্রকাশ।
উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ছিল আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষার প্রতিশ্রুতিদাতা। কিন্তু আগুন লাগার পর দেখা যায়—ভবনে ছিল না কার্যকর ফায়ার এলার্ম, ইমার্জেন্সি এক্সিট, এমনকি প্রয়োজনীয় অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা।
শিশুদের বের হওয়ার পথ বন্ধ ছিল, জানালাগুলো ছিল গ্রিল দেওয়া। এভাবেই মাইলস্টোন কলেজ অগ্নিকাণ্ড কেড়ে নেয় নিষ্পাপ প্রাণ।
একটা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আগুন লাগার পর এতগুলো প্রাণ ঝরে গেলেও এখনও কেউ দায় স্বীকার করেনি।
মাইলস্টোন কলেজ অগ্নিকাণ্ড আমাদের মনে করিয়ে দেয়, দেশে যেন প্রতিটি দুর্ঘটনার দায় এড়ানোর সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে।
প্রশাসন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, ফায়ার সার্ভিস—সবকিছুর মধ্যে শুধু দায় চাপানো আর বিবৃতি। কোনো প্রতিকার নেই, কোনো জবাবদিহি নেই।
সাংবাদিক গোলাম রাব্বী প্লাবনের প্রশ্ন আজ কোটি মানুষের কণ্ঠস্বর হয়ে উঠেছে:
“আর কত লাশ পড়লে জাতি হুঁশে ফিরবে?”
মাইলস্টোন কলেজ অগ্নিকাণ্ড নিয়ে তাঁর এই বক্তব্য আমাদের আত্মসমালোচনার আয়না হতে পারে, যদি কেউ সে আয়নার দিকে তাকাতে চায়।
🔥 মাইলস্টোন কলেজ অগ্নিকাণ্ড যেন শেষ ঘটনা না হয়—নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই হবে। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে জরুরি নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও জবাবদিহি এখনই চালু করা হোক!