প্রিন্ট এর তারিখঃ মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

ঘুম ভাঙতেই বিষধর সাপের ছোবল, মায়ের কোলে নিথর হলো স্কুল ছাত্রী সায়েমা!

20250723 153729 0000
ফাহিমা বেগম প্রিয়া

দেবীদ্বারে সাপের কামড়ে স্কুলছাত্রীর মৃত্যু, ঘুম থেকে উঠে চিৎকার—এরপর নিথর দেহ সায়েমার

দেবীদ্বারে সাপের কামড়ে স্কুলছাত্রীর মৃত্যু—এই একটি বাক্যই বদলে দিয়েছে একটি পরিবারের জীবন।
মাত্র ১৩ বছরের সায়েমা আক্তার, যে কয়েক ঘণ্টা আগেও বইয়ের পাতায় চোখ রাখছিল, সেই কিশোরী আজ নেই। মঙ্গলবার (২২ জুলাই) দিবাগত রাত ১২টার দিকে কুমিল্লার দেবীদ্বারে বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার পর ঘুম থেকে চিৎকার করে উঠে সায়েমা। কয়েক মিনিটের মধ্যেই সব শেষ।

দেবীদ্বার উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের খাইয়ার গ্রামের পূর্বপাড়ায় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। সায়েমা সৌদি প্রবাসী ইয়ার হোসেনের বড় মেয়ে এবং ‘খাইয়ার নবধারা আদর্শ বিদ্যালয়’-এর ৮ম শ্রেণির ছাত্রী।

নিহতের পরিবার জানায়, রাতে খাবার খেয়ে মশারির ভেতরে ঘুমিয়ে পড়েছিল সে। রাত ১২টার দিকে বিদ্যুৎ চলে গেলে কিছুক্ষণ পর হঠাৎ জেগে উঠে কান্নায় ভেঙে পড়ে সায়েমা। পরিবারের সদস্যরা দৌঁড়ে এসে দেখে, তার হাতে সাপ কামড় দিয়েছে। সাথে সাথে সে অজ্ঞান হয়ে পড়ে যায়।

দেবীদ্বারে সাপের কামড়ে স্কুলছাত্রীর মৃত্যু
 চিৎকারে ঘুম ভাঙে সায়মার পরিবারের, কিন্তু বাঁচানো গেল না সায়েমাকে।

প্রথমে গ্রামে স্থানীয় ওঝা দিয়ে চিকিৎসা করা হয়, কিন্তুড় অবস্থার অবনতি হলে দ্রæত দেবীদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান—সব শেষ! হৃদয়বিদারক এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই পুরো গ্রাম জুড়ে নেমে আসে শোকের মাতম। আত্মীয়-স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশীরা কেউই কান্না থামাতে পারছেন না।

স্থানীয়দের মতে, ঘরের চারপাশে আগাছা, খোলা জানালা ও বিদ্যুৎ বিভ্রাট—এই তিনটি বিপদ একসাথে হয়ে কেড়ে নিল এক কোমল প্রাণ।

এ বিষয়ে দেবীদ্বার থানার ওসি শামসুদ্দীন মোহাম্মদ ইলিয়াছ বলেন, “স্কুল শিক্ষার্থীর মৃত্যুর বিষয়ে কোনো লিখিত অভিযোগ এখনো পাইনি।”

দেবীদ্বারে সাপের কামড়ে স্কুলছাত্রীর মৃত্যু কেবল একটি প্রাণহানির ঘটনা নয়, এটি আমাদের অসচেতনতার নির্মম প্রমাণ। একটুখানি সতর্কতা হয়তো বাঁচাতে পারতো একটি জীবন, একটি স্বপ্ন, একটি ভবিষ্যৎ।

⚠️ প্রতি রাতে ঘুমানোর আগে ঘরের চারপাশ পরিষ্কার করুন, মশারি ব্যবহার করুন। একটি সতর্কতা হয়তো রক্ষা করতে পারে আরেকটি প্রাণ।

প্রিন্ট করুন