
মাইলস্টোন ট্র্যাজেডি-তে উত্তরা স্কুল দুর্ঘটনায় দগ্ধ কুমিল্লার যমজ শিশুদের অবস্থা অবনতির দিকে। কান্নায় ভেঙে পড়েছেন মা-বাবা, দেশবাসীর কাছে চেয়েছেন দোয়া।
মাইলস্টোন ট্র্যাজেডি এক ভয়াবহ ও হৃদয়বিদারক অধ্যায়ের নাম, যেখানে উত্তরা স্কুল দুর্ঘটনায় আগুনে দগ্ধ হয়ে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে কুমিল্লার দুই যমজ শিশু সারিনা জাহান ও সাইবা জাহান। রাজধানীর উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ছড়িয়ে পড়া অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ হয় তারা। বর্তমানে তারা চিকিৎসাধীন রয়েছে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের হাই-ডিপেন্ডেন্সি ইউনিটে।
দুই শিশুর একজনের শরীরের ৩০% ও অপরজনের ২০% দগ্ধ হয়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। তারা কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের বাতিসা ইউনিয়নের কুলিয়ারা গ্রামের বাসিন্দা এয়াসিন মজুমদার ও আকলিমা আক্তারের সন্তান। বুধবার দুপুরে হাসপাতালের বাইরে কান্নায় ভেঙে পড়েন তাদের মা। তিনি বলেন,
“গেইট পর্যন্ত গেছিলাম… স্কুল ছুটি হচ্ছিলো… তখনই ঘটে এই ট্র্যাজেডি। আগুনে পোড়া সন্তানদের এখনো দেখতে পারি না… দেশবাসীর কাছে দোয়া চাই।”

এই উত্তরা স্কুল দুর্ঘটনা ঘটে ২১ জুলাই দুপুরে, যখন একটি ছোট বিমান মাইলস্টোন স্কুলের ওপর বিধ্বস্ত হয়। মুহূর্তেই চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে আগুন ও ধোঁয়া।
চৌদ্দগ্রামের ব্যবসায়ী এয়াসিন মজুমদারের যমজ মেয়ে তখন স্কুলের বারান্দায় ছিল। আগুনের তাপে পুড়ে যায় তাদের হাত, পা ও পিঠ। উদ্ধারকারীরা দ্রুত তাদের নিয়ে যায় হাসপাতালে।
অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ শিশুদের একজনকে আজ অপারেশন করা হবে বলে জানান তাদের বাবা এয়াসিন, “দুই বোনই ভয়ের চোটে রাতে ঘুমাতে পারে না। হঠাৎ হঠাৎ চিৎকার দেয়। তারা যেন পরিপূর্ন সুস্থ্য ও ভালো হয়ে ফিরে আসে, সবার কাছে এই দোয়া চাই।”
সারিনা ও সাইবার মতো অন্যান্য আগুনে পোড়া শিক্ষার্থীদের জন্যও গোটা জাতিকে এখনই এগিয়ে আসতে হবে। মা-বাবার কান্না থামছে না, হাসপাতালের দেয়ালগুলো যেন প্রতিধ্বনি তুলে কাঁদছে।
মাইলস্টোন ট্র্যাজেডি এখন আর শুধু একটি দুর্ঘটনা নয়—এটা এ জাতির বিবেকের অগ্নি পরীক্ষা।
📣 Call to Action:
আপনিও দোয়া করুন—যেন মাইলস্টোন ট্র্যাজেডিতে দগ্ধ দুই ছোট্ট পরী সুস্থ হয়ে আবার স্কুলে ফিরতে পারে।

