স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ছাত্র প্রতিনিধির চাঁদাবাজি, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন ও গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদের কেন্দ্রীয় নেতাসহ ৫ জন গ্রেপ্তার, দুই সংগঠন থেকে স্থায়ী বহিষ্কার
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ছাত্র প্রতিনিধির চাঁদাবাজি ইস্যুতে রাজধানীর গুলশানে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। সংরক্ষিত আসনের এক সাবেক নারী সংসদ সদস্যের কাছে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করতে গিয়ে হাতেনাতে ধরা পড়েছেন আব্দুর রাজ্জাক বিন সুলাইমান ওরফে রিয়াদ। তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ছাত্র প্রতিনিধি ও সরকারি কমিশনের সদস্য ছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

ঘটনার পর গণ অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান এক ফেসবুক পোস্টে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, রিয়াদ শুধু ছাত্র প্রতিনিধি নয়, বরং বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের কেন্দ্রীয় নেতাও ছিলেন। ইতোমধ্যে সংগঠন থেকে তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
রাশেদ আরও বলেন, “সব মন্ত্রণালয়েরই এমন ছাত্র প্রতিনিধি আছে যারা সরকারি পরিচয় ব্যবহার করে নিয়োগ, বদলি বাণিজ্য, তদবির এমনকি মামলাবাজিতেও জড়িত। এরা চায় না কোনো নির্বাচন হোক, কারণ তাহলেই তাদের কোটি টাকার স্মার্ট চাঁদাবাজির পথ বন্ধ হয়ে যাবে।”
এ বিষয়ে সাংবাদিক জাওয়াদ নির্ঝর তার পোস্টে লিখেছেন, “গুলশানে ৫০ লাখ টাকা চাঁদাবাজির সময় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের যুগ্ম আহ্বায়ক রিয়াদসহ ৫ জন ধরা পড়ে। তার রাজনৈতিক অভিভাবক নাহিদ ইসলাম এই রিয়াদকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ছাত্র প্রতিনিধি বানিয়েছেন।”
গ্রেপ্তার অন্যরা হলেন, সাকাদাউন সিয়াম (২২), সাদমান সারদার সাদাব (২১), ইব্রাহিম হোসেন মুন্না (২৪), আমিনুল ইসলাম (১৩)।
চাঁদাবাজির ঘটনায় গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের দুই কেন্দ্রীয় নেতা—আব্দুর রাজ্জাক বিন সুলাইমান রিয়াদ ও জানে আলম অপুকে সংগঠন থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। একইসঙ্গে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনও তাদের তিন নেতাকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করেছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ছাত্র প্রতিনিধির চাঁদাবাজি ইস্যু এখন সামাজিক মাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। সংগঠনের পরিচয়ে যারা দাপট দেখিয়ে অপরাধ করে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি উঠছে।

আজকের কথা ডেস্ক