প্রিন্ট এর তারিখঃ বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬, ২৩ বৈশাখ ১৪৩৩

চুল কেটে জুতার মালা পরিয়ে নারীকে গাছে বেঁধে নির্যাতন, মবকে প্রশ্রয় দিচ্ছে ইউনুসের সরকার

0aadfdc86e25737da9c694b61dc8c8c4 6889a86f779f1
ফাহিমা বেগম প্রিয়া

গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে নারীকে গাছে বেঁধে নির্যাতন, ভিডিও ভাইরাল, অভিযোগ উঠেছে প্রভাবশালী ইউনুস মিয়া ও তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে

পলাশবাড়ীতে নারীকে গাছে বেঁধে নির্যাতন করার ভয়াবহ একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, এক নারীকে আমগাছের গোড়ায় দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে, মাথার চুল কেটে দেওয়া, মুখে রং মাখানো, এলোমেলো পোশাক—সব মিলিয়ে একটি অমানবিক দৃশ্য।

ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগ, গত রোববার স্থানীয় প্রভাবশালী ইউনুস মিয়া ও তার সহযোগীরা তাকে পরকীয়ার অপবাদ দিয়ে মারধর শুরু করেন। এরপর তাকে গাছের সঙ্গে বেঁধে প্রায় আড়াই ঘণ্টা ধরে কাঠ ও বাঁশের লাঠি দিয়ে পেটানো হয়। মাথার চুল কেটে, মুখে রং মেখে, জুতার মালা পরিয়ে তাকে বিবস্ত্র অবস্থায় ফেলে রাখা হয়।

নারীটি জানান, “তারা আমার গরু বিক্রির টাকার ব্যাগ লুট করে, বাড়িঘর ভাঙচুর করে। এখন হুমকি দিচ্ছে মামলা না করার জন্য।” তিনি আরও বলেন, “ভয়ে বাড়ির বাইরে যেতে পারছি না। তারা বসতভিটাও কেড়ে নিতে চায়।”

পলাশবাড়ীতে এক নারীকে গাছে বেঁধে
পলাশবাড়ীতে এক নারীকে গাছে বেঁধে চুল কেটে, মারধর করে জুতার মালা পরিয়ে অমানবিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে ইউনুস মিয়া ও তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে।

সরেজমিন গিয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য আসাদুজ্জামান মজনু জানান, “ঘটনাস্থলে গিয়ে নারীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছি।”

অভিযুক্ত ইউনুস মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করতে গেলে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি। বরং তার লোকজন উল্টো সাংবাদিকদের ভিডিও ধারণ করে হুমকি দেয়।

পলাশবাড়ীতে নারীকে গাছে বেঁধে নির্যাতন ঘটনায় হরিণাবাড়ী পুলিশ তদন্তকেন্দ্রে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এসআই সবুজার আলী জানান, “প্রাথমিক তদন্তে নির্যাতনের সত্যতা পাওয়া গেছে। থানায় মামলা করতে বলা হয়েছে।”

এই ঘটনায় দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকে বলছেন, “মোব জাস্টিসকে ছড়াতে আজ যারা রাষ্ট্রের দায়িত্বে, তাদের প্রত্যক্ষ প্রশ্রয়েই এমন বর্বরতা সম্ভব হচ্ছে।”

পলাশবাড়ীতে নারীকে গাছে বেঁধে নির্যাতন ঘটনায় দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি উঠেছে, তবে অপরাধীদের প্রভাব রাজনৈতিক বলয়ের ছায়ায় আড়াল হয়ে যাচ্ছে—এমন অভিযোগ উঠছে সর্বত্র।

🗣️ মন্তব্য (Opinion):

এই বর্বরতা কেবল কয়েকজন প্রভাবশালীর অপরাধ নয়—এটি আমাদের সমাজ ও রাষ্ট্রের বিবেকহীনতার প্রতিচ্ছবি। মব জাস্টিসকে প্রশ্রয় দিয়ে যারা রাষ্ট্র পরিচালনা করছে, তারা নিজেরাই অপরাধীদের রক্ষা করছে। নির্যাতনের বিরুদ্ধে না দাঁড়ালে একদিন এই আগুন সবাইকে ছুঁয়ে যাবে।

📢 Call to Action (আহ্বান):

🙋‍♀️ এই নারীর জন্য ন্যায়বিচার চাই!
📣 বর্বর ইউনুস মিয়া ও তার মদদদাতাদের দ্রুত গ্রেপ্তার করুন!
✊ রাষ্ট্র ও সমাজকে মবের হাত থেকে রক্ষা করতে এখনই রুখে দাঁড়ান।
📝 পোস্টটি শেয়ার করুন, যাতে অন্যায়ের মুখোশ উন্মোচিত হয়।

প্রিন্ট করুন