পাবলিক টয়লেটে অফিস স্থানান্তর, তিতাসে সাব রেজিস্ট্রার কক্ষ নিয়ে বিতর্ক, গ্রাহক দুর্ভোগে প্রায় ২ হাজার আবেদন ঝুলে আছে
কুমিল্লার তিতাসে পাবলিক টয়লেটে অফিস স্থানান্তর করায় ১৫ দিন ধরে বন্ধ রয়েছে দলিলের নকল সরবরাহ। সাব-রেজিস্ট্রার তার দাপ্তরিক সুবিধা বৃদ্ধির লক্ষ্যে নকলনবিশদের কক্ষ খালি করে পাশের পাবলিক টয়লেটে স্থানান্তর করেন। এর প্রতিবাদে নকলনবিশরা দলিল লেখা বন্ধ রেখেছেন, ফলে প্রায় ২ হাজার আবেদনকারী চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
সরেজমিনে জানা যায়, সাব-রেজিস্ট্রার পূর্বে যে কক্ষে বসতেন তা খালি করে তার জন্য নতুন করে টয়লেট নির্মাণ করা হয়েছে, আর নকলনবিশদের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে জনসাধারণের ব্যবহৃত পুরোনো একটি টয়লেট। মাত্র ৫ জনের বসার মতো জায়গায় সেখানে কাজ করার কথা ১৫ জনের! এই অব্যবস্থাপনার প্রতিবাদেই কাজ বন্ধ রেখেছেন তারা।
জেলা রেজিস্ট্রার ইতিমধ্যে একজন নকলনবিশকে শোকজ করেছেন। তবে অনেকেই বলছেন, এটি মানবিকতার পরিপন্থী সিদ্ধান্ত। উপজেলা দলিল লেখক সমিতির সভাপতি মেহেদী হাসান সেলিম ভূঁইয়া জানিয়েছেন, সাব রেজিস্ট্রার ও জেলা রেজিস্ট্রারকে দ্রুত সমাধানের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এদিকে সাব-রেজিস্ট্রার শরীফুল ইসলাম দাবি করেছেন, ১৫ জন নকলনবিশের মধ্যে ১১ জন নারী। পূর্বের টয়লেট দূরে থাকায় তাদের সমস্যায় পড়তে হতো, এজন্যই নিকটস্থ কক্ষ সংস্কার করে তাদের স্থানান্তর করা হয়েছে।
তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমাইয়া মমিন বলেন, পাবলিক টয়লেট অফিস কক্ষ হিসেবে ব্যবহারের কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।
পাবলিক টয়লেটে অফিস স্থানান্তর নিয়ে সৃষ্টি হওয়া এই সংকট দ্রুত সমাধান না হলে দলিল সংক্রান্ত কার্যক্রম আরও বড় স্থবিরতার মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা স্থানীয়দের।

আজকের কথা ডেস্ক