

রিকশাচালকদের প্রশিক্ষণে ল্যাপটপ ব্যবহার এবং ছয় কোটি টাকা ব্যয়ের সরকারি উদ্যোগ ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক ও আলোচনার ঝড়। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) এই প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য প্রথম ধাপে ৩০০ জন মাস্টার ট্রেইনার প্রস্তুত করছে, যারা ই-রিকশা চালকদের প্রশিক্ষণ দেবেন।
প্রতিটি ট্রেইনারকে দেওয়া হবে একটি করে ল্যাপটপ ও প্রজেক্টর। শুধুমাত্র এই সরঞ্জাম কেনার জন্যই বরাদ্দ রাখা হয়েছে প্রায় ৬ কোটি টাকা। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত মাস্টার ট্রেইনাররা বুয়েটের তৈরি আধুনিক ই-রিকশার বিষয়ে চালকদের সচেতন করবেন।
📊 বাজেট ও বিতর্ক
ডিএনসিসির হিসাব অনুসারে, ৩০০ জন প্রশিক্ষকের জন্য প্রশিক্ষণ ব্যয় ধরা হয়েছে ৫৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা।
প্রশিক্ষণ চলাকালে দেওয়া হয়েছে নাশতা, ভাতা ও অন্যান্য খরচ বাবদ দৈনিক ১,০০০ টাকা।
প্রত্যেক ট্রেইনার পাবে একটি ল্যাপটপ ও একটি প্রজেক্টর, যার সম্ভাব্য খরচ একত্রে দুই লাখ টাকা।
এই ল্যাপটপ ও প্রজেক্টর দিয়ে কীভাবে রিকশাচালকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে, তা জানতে চাইলে ব্র্যাক রোড সেফটি প্রোগ্রামের ব্যবস্থাপক জানান—ডাটাবেজ তৈরি, ট্রাফিক সাইন বোঝানো, দুর্ঘটনা প্রতিরোধে করণীয় ইত্যাদি ভিজ্যুয়াল কনটেন্ট দেখাতেই এসব উপকরণ ব্যবহার হবে।
🚦 মাঠপর্যায়ে প্রস্তুতি
এই মাসেই পল্টন, ধানমন্ডি ও উত্তরার সড়কে পরীক্ষামূলকভাবে বুয়েটের তৈরি হাইড্রোলিক ব্রেকসহ ই-রিকশা নামানো হবে। প্রতিটি রিকশার দাম ধরা হয়েছে প্রায় ১ লাখ ৪৫ হাজার টাকা। এই মডেলের রিকশা ধীরে ধীরে সড়কে বিদ্যমান অবৈধ ব্যাটারিচালিত রিকশার পরিবর্তে চালু করা হবে।
এ জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক ও মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি (MRA) থেকে চালকদের জন্য সহজ ঋণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। পাশাপাশি সিটি করপোরেশন চালকদের প্রশিক্ষণ ও নিবন্ধনের মাধ্যমে লাইসেন্সিং সিস্টেমে আনবে।
🧑🏫 প্রশিক্ষণ কীভাবে চলছে?
তিন দিনের প্রশিক্ষণ হয়েছে জুন মাসে
ব্র্যাকের সহযোগিতায় উপস্থাপনা ও প্রশিক্ষণ কনটেন্ট তৈরি
প্রশিক্ষকের জন্য কমিউনিকেশন স্কিল, আত্মবিশ্বাস ও কারিগরি জ্ঞান শেখানো হয়েছে
শেষদিন বুয়েটের ই-রিকশার কারিগরি বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ
🚗 বুয়েটের ই-রিকশার বৈশিষ্ট্য
গতি: ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৩০ কিমি
নিরাপত্তা: উন্নত হাইড্রোলিক ব্রেক ও যাত্রী নিরাপত্তা ব্যবস্থা
কাঠামো: মাইল্ড স্টিল ও অ্যালুমিনিয়াম দিয়ে তৈরি
ওজন বহন: ৩২৫–৪২৫ কেজি
পরিবেশবান্ধব: বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী ও চার্জিং স্টেশন উপযোগী
📣 সমালোচনা ও সুপারিশ
বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন,
“প্রশিক্ষণে ল্যাপটপ-প্রজেক্টরের ব্যবহার যদি ঠিকভাবে পর্যবেক্ষণ না করা হয়, তাহলে এটি হতে পারে আরেকটি ব্যর্থ প্রকল্প। এইবার যেন সড়কে শৃঙ্খলা ফেরে, তা নিশ্চিত করতে হবে।”
রিকশাচালকদের প্রশিক্ষণে ল্যাপটপ ব্যবহার সরকারের আধুনিকীকরণ প্রচেষ্টারই একটি অংশ। তবে এ উদ্যোগ বাস্তব রূপ পাবে কি না, তা নির্ভর করবে বাস্তবায়নের স্বচ্ছতা, মনিটরিং ও সঠিক ব্যবহার নিশ্চয়তার ওপর। অতীতের ব্যর্থতা যেন বর্তমানেও পুনরাবৃত্তি না ঘটে—এটাই এখন সময়ের দাবি।