প্রিন্ট এর তারিখঃ রবিবার, ৭ জুন ২০২৬, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

গোমতী নদী দখলমুক্ত করতে ৬ মাস সময়, হাইকোর্টের কঠোর নির্দেশ

গোমতী নদী দখলমুক্ত রায়
মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী

গোমতী নদী দখলমুক্ত রায়, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও ইউএনওদের সার্বক্ষণিক নজরদারির নির্দেশ, নদী ডেজিং প্রস্তাবও ত্বরান্বিত করার আদেশ

গোমতী নদী দখলমুক্ত রায় অনুযায়ী অবৈধ দখল ও স্থাপনা উচ্ছেদে হাইকোর্ট ৬ মাসের সময়সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছেন। রোববার (৩ আগস্ট) বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মো. বশির উল্লাহর হাইকোর্ট বেঞ্চ এ সংক্রান্ত রায় দেন।

জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, এ নদের দুই পাশের ৫০৮টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে হবে। একইসঙ্গে ভবিষ্যতে যাতে কেউ তা দখল বা ভরাট না করতে পারে, সেজন্য পুলিশ সুপার ও সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের সার্বক্ষণিক নজরদারির আদেশ দিয়েছেন আদালত।

গোমতী নদী দখলমুক্ত রায়
গোমতী নদী দখলমুক্ত করতে ৬ মাস সময়, হাইকোর্টের কঠোর নির্দেশ

অপরদিকে মানবাধিকার ও পরিবেশবাদী সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি) ২০১১ সালে জনস্বার্থে রিটটি দায়ের করে। গণমাধ্যমে নদী দখলের খবর প্রকাশের পর আদালত প্রাথমিকভাবে রুল জারি করেন এবং এ নদীর সীমানা নির্ধারণ ও দখলদারদের তালিকা দাখিলের নির্দেশ দেন।

পরে জরিপে ৬২৩টি অবৈধ স্থাপনা চিহ্নিত করা হয়, যার মধ্যে ২৬৫টি উচ্ছেদের বিষয়ে আদালতে হলফনামা জমা দেওয়া হয়েছিল।

রায়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে তিন মাসের মধ্যে নদী ডেজিং প্রস্তাবের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে সিনিয়র আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বলেন, “উচ্ছেদ কার্যক্রমের জন্য অর্থ বরাদ্দ তিন মাসের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে হবে। প্রয়োজনে এলআর ফান্ড ব্যবহার করে কাজ শুরু করতে বলেছেন আদালত।”

গোমতী নদী দখলমুক্ত রায় অনুযায়ী এই পদক্ষেপ বাস্তবায়ন হলে কুমিল্লায় আবারও তার স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরে পাবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন পরিবেশবাদীরা।

প্রিন্ট করুন