প্রিন্ট এর তারিখঃ বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩

জনকণ্ঠ দখলচেষ্টা: সরকারের ছত্রছায়ায় মব তৈরি করে মালিকপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা

Untitled 17
মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী

জনকণ্ঠ দখলচেষ্টা, সম্পাদককে অবাঞ্ছিত ঘোষণা, নতুন বোর্ডের দাবি, ভবনে মব সৃষ্টি করে দখলের অভিযোগ

জনকণ্ঠ দখলচেষ্টা নিয়ে ঢাকার ইস্কাটনে জনকণ্ঠ ভবনের সামনে নাটকীয় ও উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। একদল নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মী বর্তমান সম্পাদককে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে মালিকপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। অভিযোগ, সরকারের ছত্রছায়ায় ভবনে মব তৈরি করে অবৈধ দখলচেষ্টা চলছে।

গত শনিবার রাতে জনকণ্ঠ ভবনের সামনে এক সমাবেশে মীর জসিম নামের একজন নিজেকে ‘নতুন সম্পাদকীয় বোর্ড’-এর সদস্য হিসেবে পরিচয় দিয়ে জানান, “বর্তমান সম্পাদক কেবল প্রকাশকের দায়িত্বে থাকবেন, তার ছেলেরাও জনকণ্ঠে অবাঞ্ছিত।”

এর আগে ওইদিন মালিকপক্ষ কিছু কর্মীকে বরখাস্ত করলে পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় সেই কর্মীরা হাতিরঝিল থানায় মামলা দায়ের করেন। পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক শামীমা এ খান পুরো ঘটনাকে ‘ষড়যন্ত্র’ হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, “সরকারের আশীর্বাদপুষ্ট একটি গোষ্ঠী জনকণ্ঠ দখলচেষ্টা চালাচ্ছে।”

জনকণ্ঠ দখলচেষ্টা
জনকণ্ঠ দখলচেষ্টা

তিনি সরাসরি গ্লোব জনকণ্ঠ শিল্প পরিবারের সিওও অবসরপ্রাপ্ত মেজর আফিজুর রহমান, এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক জয়নাল আবেদীন শিশির এবং বিএনপি-জামায়াতঘনিষ্ঠ কিছু সাংবাদিককে দায়ী করেন। যদিও অভিযুক্তরা এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

জয়নাল আবেদীন শিশির বলেন, “আমরা এখনো মালিকানা বা প্রকাশনায় নেই। একটি বোর্ড গঠন করেছি, যেটা কর্মরত সাংবাদিকদের সম্মতিতেই হয়েছে। দখলের অভিযোগ আওয়ামী লীগ ও ভারতীয় গোয়েন্দাদের দৃষ্টিভঙ্গি।”

এ ঘটনার পর থেকে জনকণ্ঠের অনলাইন সংস্করণে পূর্বের মতো সম্পাদক ও প্রকাশকের নাম আর দেখা যাচ্ছে না। বরং সেখানে লেখা রয়েছে, ‘সম্পাদকমণ্ডলী কর্তৃক গ্লোব জনকণ্ঠ শিল্প পরিবারের সদস্য প্রতিষ্ঠান যথাক্রমে গ্লোব প্রিন্টার্স লি. ও জনকণ্ঠ লি. থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত।’

১৯৯৩ সালে আতিকউল্লাহ খান মাসুদের হাতে গড়া দৈনিক জনকণ্ঠ মুক্তিযুদ্ধপন্থী অবস্থান নিয়ে জনপ্রিয়তা পায়। বিশেষত ‘সেই রাজাকার’ সিরিজ ছিলো আলোচিত। পরবর্তীতে পত্রিকাটি আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিতি পায়। কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে জনকণ্ঠে নেতৃত্ব বদল এবং নীতিগত পরিবর্তন দেখা যায়।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকার পরিবর্তনের পর ঢাকার বহু গণমাধ্যমে মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণ বদল হয়েছে, আর কোথাও কোথাও সরকারের ছত্রছায়ায় মব তৈরি করে জোরপূর্বক নিয়ন্ত্রণ নেওয়া হচ্ছে, জনকণ্ঠও সেই ঘটনার শিকার।

জনকণ্ঠ দখলচেষ্টা নিয়ে এখন দেশের সাংবাদিক মহলে চরম উদ্বেগ। এটি শুধুই একটি পত্রিকার ভবিষ্যৎ নয়, বরং স্বাধীন সাংবাদিকতার অস্তিত্ব নিয়েই প্রশ্ন তুলছে।

প্রিন্ট করুন