প্রিন্ট এর তারিখঃ মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬ ভাদ্র ১৪৩৩

৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ গৃহযুদ্ধ এড়িয়েছে: জনবিচ্ছিন্নতা থেকে ফিরে আসার মোড় ঘুরেছে রাজনীতির

Screenshot 2025 08 05 04 01 16 13 f598e1360c96b5a5aa16536c303cff92
মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী

৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ গৃহযুদ্ধ এড়িয়েছে, গুজবের বশবর্তী এক কঠিন মুহূর্তে সংঘাতে না গিয়ে শান্তি বেছে নেয় আওয়ামী লীগ, এক বছর পর তা-ই হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের শক্তির ভিত্তি

৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ গৃহযুদ্ধ এড়িয়েছে, এই কথাটি কেবল একটি রাজনৈতিক বক্তব্য নয়, বরং সাম্প্রতিক বাংলাদেশি রাজনীতির এক গুরুত্বপূর্ণ বাঁকের প্রতিচ্ছবি। সেই সময় সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গুজব, উত্তেজনা, বিদ্বেষমূলক বক্তব্য ও মিথ্যাচারের মধ্যে রাজনৈতিক সংঘাতের সমূহ আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। দেশের নানা প্রান্তে উত্তেজনা বিরাজ করছিল এবং অনেকে আশঙ্কা করছিলেন—এবার বুঝি রক্তপাত অনিবার্য।

৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ গৃহযুদ্ধ এড়িয়েছে
৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ গৃহযুদ্ধ এড়িয়েছে, গুজব ভেঙে জনআস্থা ফিরে পাচ্ছে দল।

এই পরিস্থিতিতে যদি আওয়ামী লীগ মাঠে সংঘাতে নামতো, তাহলে পরিণতি হতো ভয়াবহ। শেখ হাসিনা থেকে শুরু করে অসংখ্য নেতা-কর্মী সরাসরি হুমকির মুখে পড়তেন। রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতো দল, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও তৈরি হতো নেতিবাচক বার্তা। বরং আওয়ামী লীগ যেভাবে কৌশলী নিরবতা ও সহনশীলতা বজায় রেখেছে, তা আজ স্পষ্টতই প্রমাণ করছে—এই সিদ্ধান্তই দেশকে গৃহযুদ্ধ থেকে রক্ষা করেছে।

তবে এই সহনশীলতা অনেকের কাছে দুর্বলতা হিসেবে ধরা দিয়েছিল। বিশেষ করে ফেসবুক ও ইউটিউব ঘিরে থাকা গুজবের ঝড় মানুষকে বিভ্রান্ত করেছিল। আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে নানা ভুয়া তথ্য ছড়ানো হয়েছিল, দলটিকে জনবিচ্ছিন্ন দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। সেদিন যদি দলটি রাস্তায় নামতো, সেই উত্তেজনার সুযোগ নিয়ে দুষ্কৃতিকারীরা সংঘর্ষ বাধাত, যার দায় দলের ঘাড়ে বর্তাত।

তবে সময়ই সত্যের উত্তর দিয়েছে। গত এক বছরে অন্তর্বর্তী সরকারের ভেতরের দ্বিচারিতা, অসাংবিধানিক পদক্ষেপ ও ষড়যন্ত্র একে একে জনসমক্ষে উন্মোচিত হয়েছে। মাইক্রোক্রেডিট সিস্টেমের নামে জনগণকে জিম্মি করে রাখা ইউনুস এবং তার প্রভাবশালী বৃত্তের বিরুদ্ধে এখন দেশের সাধারণ মানুষ মুখ খুলতে শুরু করেছে। গ্রাম-গঞ্জের খেটে খাওয়া মানুষ যারা একসময় বিভ্রান্ত ছিল, তারাই এখন শেখ হাসিনার কথায় আস্থা ফিরে পাচ্ছে।

বর্তমানে পাড়া-মহল্লা থেকে শুরু করে শিল্পাঞ্চল—সবখানেই একটা নতুন প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। মানুষ বলছে, “শেখ হাসিনা না থাকলে আবারও ব্যর্থতা, দুর্নীতি ও বৈদেশিক আগ্রাসন ফিরে আসবে।” ইউনুসবিরোধী এই জনমতের ধার এখন এতটাই প্রবল যে, রাজনৈতিক পর্যালোচকরা বলছেন—আওয়ামী লীগ যদি এখন মাঠে নামে, তবে তা হবে জনগণের সঙ্গে এক স্বাভাবিক সংলাপ।

রাজনীতিতে সময় অত্যন্ত শক্তিশালী এক উপাদান। যারা এক বছর আগে আওয়ামী লীগকে শেষ বলে ধরে নিয়েছিল, তারাই এখন আতঙ্কিত আওয়ামী লীগের প্রত্যাবর্তন নিয়ে। কেউ কেউ আবার চেষ্টা করছে সেই গুজবের পন্থায় ফিরে যেতে, তবে মানুষ এখন অনেক সচেতন।

সুতরাং, এটা স্পষ্ট যে ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ গৃহযুদ্ধ এড়িয়েছে, আর সেটাই দলটিকে পুনরুদ্ধারের রাস্তায় এগিয়ে দিয়েছে। সময়ের প্রেক্ষাপটে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে নেওয়া ধৈর্য্য ও কৌশলগত সিদ্ধান্তই আজ আওয়ামী লীগের জন্য শক্তি হয়ে উঠেছে। এবং সেই শক্তির প্রতি দেশের জনগণ আবারও সমর্থন জানাতে শুরু করেছে।

প্রিন্ট করুন