ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে ইউনুস সরকারের প্রতিহিংসা, ছাত্রলীগের আদর্শিক অবস্থানকে আঘাত
ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে ইউনুস সরকারের প্রতিহিংসা আবারো স্পষ্ট হয়ে উঠেছে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) সাম্প্রতিক শাস্তিমূলক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে। মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ ধারণকারী এ সংগঠনের ২৮ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি ঘোষণাকে অনেকেই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং ছাত্রলীগের প্রতি দীর্ঘদিনের শত্রুতার বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করছেন।
🔻 কারা কী শাস্তি পেল
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ১১ জনের ছাত্রত্ব ও সনদ স্থায়ীভাবে বাতিল, ৭ জনের সনদ ৩ বছরের জন্য স্থগিত, ৬ জনকে আজীবন বহিষ্কার, এবং আরও ৪ জনকে ৩ বছরের জন্য বহিষ্কার করেছে।

এই তালিকায় রয়েছেন বিভিন্ন বিভাগের ২০১৩ থেকে ২০২০ শিক্ষাবর্ষ পর্যন্ত ছাত্ররা, যারা সবাই নিষিদ্ধ ঘোষণা করা ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে।
🔻 তদন্ত ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের জানুয়ারিতে তদন্ত কমিটি গঠন করে প্রশাসন। এরপর মে মাস পর্যন্ত চলা তদন্ত শেষে ২৬ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭৩তম রিজেন্ট বোর্ড সভায় ২১ নম্বর আলোচ্যসূচির অধীনে এসব সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার বিজন কুমার ব্রহ্ম বলেন, “যথাযথ নিয়ম অনুসরণ করেই বিচারকার্য সম্পন্ন হয়েছে। অভিযুক্ত সবাইকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল।”
🔻 ছাত্রলীগ বলছে ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’
বিশ্লেষক ও ছাত্রনেতারা বলছেন, ছাত্রলীগ দমনে ইউনুস সরকারের পরিকল্পনা মূলত এ কারণেই যে, ছাত্রলীগ মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে লালন করে, যা ইউনুস সরকারের নেপথ্য শক্তির বিরোধী অবস্থানকে চ্যালেঞ্জ করে।
তারা আরও অভিযোগ করেন, এই প্রশাসনিক পদক্ষেপ শুধুমাত্র বিচারের নামে একটি আদর্শিক ছাত্র সংগঠনকে দমন করার উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে।
ছাত্রলীগের প্রতি ইউনুস সরকারের প্রতিশোধ যেন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে একে একে বাস্তবায়িত হচ্ছে। পাবিপ্রবির এই শাস্তিমূলক পদক্ষেপ ছাত্র রাজনীতিতে আদর্শিক টানাপড়েনেরই এক নতুন উদাহরণ।

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী