প্রিন্ট এর তারিখঃ শনিবার, ৬ জুন ২০২৬, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

কচুরিপানা দিয়ে ব্যবসা: বিনা পুঁজিতে ভাগ্য বদলের গল্প

কচুরিপানা দিয়ে ব্যবসা
মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী

কচুরিপানা দিয়ে ব্যবসা, সোনাপুরের নারীদের হাত ধরে বিশ্ববাজারে কচুরিপানার হস্তশিল্প

কচুরিপানা দিয়ে ব্যবসা—এক সময়ের অবহেলিত জলজ উদ্ভিদ এখন পিরোজপুরের মানুষের ভাগ্য বদলের হাতিয়ার। জেলার নাজিরপুর উপজেলার গাওখালী ইউনিয়নের সোনাপুর গ্রামের শত শত পরিবার এখন কচুরিপানার মাধ্যমে স্বাবলম্বী হচ্ছেন।

এলাকাবাসীর ভাষায়, এটা এক ধরনের বিনা পুঁজিতে ব্যবসা। কারণ কচুরিপানার জন্য বাড়তি কেনার খরচ নেই। শুধু প্রয়োজন একটু শ্রম, শুকানো আর পরিবহন। নারী, পুরুষ এমনকি শিক্ষার্থীরাও এই কাজে যুক্ত হয়েছেন। বিলের কচুরিপানা সংগ্রহ করে শুকিয়ে প্রতি কেজি ৫০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। প্রতি মাসে প্রায় ১০ টন কচুরিপানা কেনাবেচা হয়।

কচুরিপানা দিয়ে ব্যবসা
অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতার পথে পিরোজপুরের গ্রামবাসী। প্রাকৃতিক কচুরিপানা রপ্তানি হচ্ছে বিশ্বের ২৫টি দেশে।

এই কাঁচামাল উত্তরবঙ্গের কুটির শিল্পে ব্যবহৃত হয়। সেখান থেকে তৈরি হয় পাটি, হাতব্যাগ, জায়নামাজ, ঝাড়সহ নানা হস্তশিল্প। এরপর এসব পণ্য রপ্তানি হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, জাপানসহ বিশ্বের ২৫টির বেশি দেশে।

স্থানীয় চাষি মোকছেদ মিয়া বলেন, ‘জমি চাষ না করেও আয় হচ্ছে। তবে রাস্তাঘাট ভালো হলে আরও সুবিধা হতো।’ উদ্যোক্তা আলমগীর হোসেন বলেন, ‘আমরা শুকনা কচুরিপানা কিনে রংপুরে পাঠাই, সেখান থেকে বিদেশে যায়।’

জেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘প্রাকৃতিক এ জলজ উদ্ভিদ দিয়ে ব্যবসা হচ্ছে জেনে আমরা খতিয়ে দেখছি কীভাবে কৃষকদের পাশে দাঁড়ানো যায়।’

কচুরিপানা দিয়ে ব্যবসা এখন আর কল্পনা নয়, বরং একটি নতুন সম্ভাবনার দিক। যোগাযোগব্যবস্থা উন্নত হলে এই অঞ্চল হয়ে উঠতে পারে গ্রামীণ শিল্পবিপ্লবের নতুন কেন্দ্র।

প্রিন্ট করুন