প্রিন্ট এর তারিখঃ মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩

সরকারের দমনপীড়নে দিশেহারা জনগণ, কলিমুল্লাহর গ্রেফতার নিয়ে উঠছে প্রশ্ন

ড. কলিমুল্লাহ দুর্নীতির অভিযোগ
মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী

সরকারের দমনপীড়নে দিশেহারা জনগণ, মতপ্রকাশের অধিকার খর্ব? রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কলিমুল্লাহকে গ্রেফতার করার অভিযোগ

সরকারের দমনপীড়নে দিশেহারা জনগণ। বাংলাদেশে স্বাধীন মতপ্রকাশ দিন দিন কঠিন হয়ে উঠছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী কেউ যদি সত্য উচ্চারণ করে, তবে তার পরিণাম হয় ভয়াবহ। সরকারের দমনপীড়নে দিশেহারা জনগণ—এই বাস্তবতা আবারও প্রমাণ হলো অধ্যাপক ড. নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহর গ্রেফতারের ঘটনায়।

বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) রাজধানীর মোহাম্মদপুরে নিজ বাসা থেকে এই বর্ষীয়ান শিক্ষাবিদ ও বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) সাবেক উপাচার্যকে গ্রেফতার করে গোয়েন্দা পুলিশ। বলা হচ্ছে, দুর্নীতির একটি মামলায় দুদকের আবেদনের ভিত্তিতে এই গ্রেফতার। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে—এটা কি শুধুই দুর্নীতির মামলা, নাকি এর পেছনে আছে অন্য কোনো রাজনৈতিক প্রতিহিংসা?

সরকারের দমনপীড়নে দিশেহারা জনগণ
ড. নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহ

ডিএমপি’র মিডিয়া ও জনসংযোগ শাখার উপ-পুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান জানিয়েছেন, “দুদক কর্তৃক তদন্তাধীন একটি মামলায় কলিমুল্লাহকে গ্রেফতার করা হয়েছে।” তবে ডিবির বক্তব্যে ধোঁয়াশা থেকেই যাচ্ছে—কারণ এই মামলার বিচার কার্যক্রম এখনো শুরু হয়নি এবং কলিমুল্লাহ পূর্ব থেকেই তার নির্দোষিতা প্রমাণে সক্রিয় ছিলেন।

কলিমুল্লাহর বিরুদ্ধে অভিযোগ

২০২৪ সালের ১৮ জুন, বেরোবির অবকাঠামোগত উন্নয়ন কাজের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে কলিমুল্লাহসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মামলার এজাহারে বলা হয়, আসামিরা পরস্পরের যোগসাজশে ৩০ কোটি টাকার অধিক মূল্যের চুক্তি মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়া করেছেন। নিরাপত্তা জামানতকে এফডিআর করে ব্যাংকে জমা দিয়ে সেই টাকায় ঠিকাদারকে লোন দেওয়ারও অভিযোগ আনা হয়েছে। যার ফলে, সরকারের প্রায় ৪ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।

কিন্তু এই অভিযোগের বিপরীতে কলিমুল্লাহ বারবার বলেছেন, তিনি কোনো দুর্নীতি করেননি এবং সব কার্যক্রমই বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড ও প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী হয়েছে।

মতপ্রকাশের পরিণতি?

অনেকে মনে করছেন, কলিমুল্লাহ শুধুমাত্র দুর্নীতির দায়ে নয়, বরং তার সামাজিক ও গণমাধ্যমে সরব ভূমিকার কারণেই ক্ষমতাসীনদের চক্ষুশূল হয়েছেন। তিনি নিয়মিত টকশো ও মতামতমূলক আলোচনায় অংশ নিতেন এবং সরাসরি সমালোচনা করতেন বর্তমান সরকারের নীতির। তার এমন স্পষ্টভাষী চরিত্রকেই হুমকি মনে করেছে ক্ষমতাধর মহল—এমনটাই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

বেসরকারি বিভিন্ন ফোরাম, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি, এমনকি দেশের বাইরে থাকা প্রগতিশীল বুদ্ধিজীবীরাও এই গ্রেফতারে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

একজন দেশপ্রেমিকের কণ্ঠরোধ?

ড. নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহ মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী একজন শিক্ষাবিদ। তার লেখনী, বক্তৃতা এবং কার্যকলাপ বরাবরই গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের পক্ষে। এমন একজন ব্যক্তিকে ‘দুর্নীতির’ দোহাই দিয়ে গ্রেফতার করার মধ্য দিয়ে সরকার আবারও প্রমাণ করলো—তারা ভিন্নমতকে সহ্য করতে চায় না।

জনগণ আজ আতঙ্কে

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষাক্ষেত্রে এক ধরনের আতঙ্ক ও হতাশা ছড়িয়ে পড়েছে। দেশের নাগরিকেরা প্রশ্ন তুলছে—আজ যদি একজন উপাচার্যকেই এভাবে দমন করা হয়, তবে সাধারণ মানুষ কিভাবে নিরাপদ বোধ করবে?

সরকারের দমনপীড়নে দিশেহারা জনগণ

একের পর এক মতপ্রকাশকারীকে গ্রেফতার, হুমকি বা হয়রানি করে আজকের শাসকগোষ্ঠী বুঝিয়ে দিচ্ছে—তারা গণতন্ত্র নয়, ভয়ের সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করতে চায়। এবং তাই, সরকারের দমনপীড়নে দিশেহারা জনগণ ক্রমেই মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে এই শাসনের কাছ থেকে।

প্রিন্ট করুন