
সমালোচনার মুখে যুক্তরাজ্যের মন্ত্রীর পদ ছাড়লেন রুশনারা আলী। বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ এমপি রুশনারা আলী যুক্তরাজ্যের গৃহহীনবিষয়ক মন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। পূর্ব লন্ডনে নিজের মালিকানাধীন একটি টাউনহাউস থেকে ভাড়াটেদের উচ্ছেদ ও ভাড়া একলাফে ৭০০ পাউন্ড বাড়ানোর ঘটনায় তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ার পর তিনি এই সিদ্ধান্ত নেন। বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ১০ ডাউনিং স্ট্রিট তাঁর পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করে। খবর বিবিসির।
রুশনারা আলী ২০১০ সাল থেকে টানা লেবার পার্টির প্রার্থী হয়ে টাওয়ার হ্যামলেটসের বেথনাল গ্রিন ও স্টেপনি আসনে জয়ী হচ্ছেন। গত নির্বাচনে পঞ্চমবারের মতো এমপি হওয়ার পর তাকে গৃহায়ণ, কমিউনিটি ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের পার্লামেন্টারি আন্ডার সেক্রেটারি বা ‘হোমলেসনেস মিনিস্টার’ হিসেবে প্রথমবারের মতো মন্ত্রিত্বের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তার মালিকানাধীন বো এলাকার একটি বাড়িতে চারজন ভাড়াটে ৩ হাজার ৩০০ পাউন্ড মাসিক ভাড়ায় বসবাস করছিলেন। চুক্তির মেয়াদ শেষে তাদের চার মাসের নোটিশ দিয়ে বাড়ি ছাড়তে বলা হয় এবং পরে বাড়িটি ৪ হাজার পাউন্ড ভাড়ায় বাজারে তোলা হয়। গৃহহীনদের সুরক্ষা ও ভাড়াটে অধিকার রক্ষার দায়িত্বে থাকা একজন মন্ত্রীর এ পদক্ষেপ জনমনে ক্ষোভ সৃষ্টি করে।
পদত্যাগপত্রে রুশনারা লেখেন, সরকারের কাজে বিভ্রান্তি তৈরি না করতেই তিনি সরে দাঁড়াচ্ছেন। তবে সমালোচকরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে বেসরকারি বাড়িওয়ালাদের ভাড়াটে শোষণের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকা একজন মন্ত্রীর এমন আচরণ ভণ্ডামির উদাহরণ।
ভাড়াটে অধিকার সংগঠন অ্যাকর্ন এবং রেন্টার্স রিফর্ম কোয়ালিশন তার পদত্যাগ দাবি করে। বিরোধী কনজারভেটিভ পার্টি ও গ্রিন পার্টি ঘটনাটিকে ভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইন ও দোষ ছাড়া উচ্ছেদ নিষিদ্ধ করার প্রয়োজনীয়তার প্রমাণ হিসেবে দেখেছে।
সিলেটে জন্ম নেওয়া রুশনারা আলী সাত বছর বয়সে পরিবারসহ যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমান এবং অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দর্শন, রাজনীতি ও অর্থনীতিতে স্নাতক সম্পন্ন করেন।
সমালোচনার মুখে যুক্তরাজ্যের মন্ত্রীর পদ ছাড়লেন রুশনারা আলী, যা ব্রিটিশ রাজনীতিতে নৈতিকতার প্রশ্ন উত্থাপন করেছে।