প্রিন্ট এর তারিখঃ বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

২০৫০ সালের মধ্যে মানুষের আয়ু হবে ১,০০০ বছর: দাবি বিজ্ঞানীদের

২০৫০ সালে মানুষের আয়ু ১,০০০ বছর
অনলাইন ডেস্ক

২০৫০ সালে মানুষের আয়ু ১০০০ বছর: বিজ্ঞানীদের ভবিষ্যদ্বাণী

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অগ্রগতিতে ২০৫০ সালে মানুষের আয়ু ১০০০ বছর হতে পারে বলে দাবি করেছেন বিশ্বখ্যাত ফিউচারিস্ট রে কারজওয়াইল, ইয়ান পিয়ারসন ও অবারি ডি গ্রে। তাঁদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ন্যানোটেকনোলজি, জিন প্রকৌশল ও রোবোটিকস মানুষের জীবনকালকে বিপ্লবীভাবে বাড়িয়ে তুলবে।

২০৫০ সালে মানুষের আয়ু ১,০০০ বছর
২০৪৫ সালের মধ্যে মানুষের সঙ্গে মেশিনের প্রকৃত একীভূত ঘটবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন। ছবি: আইডিওগ্রাম

কম্পিউটার বিজ্ঞানী রে কারজওয়াইল বলেন, ২০২৯ সালের মধ্যে এআই মানুষের বুদ্ধিমত্তাকে ছাড়িয়ে যাবে—যা ‘সিঙ্গুলারিটি’ নামে পরিচিত। আর ২০৪৫ সালের মধ্যে মানুষের মস্তিষ্ক ও মেশিনের পূর্ণ একীভূত ঘটবে। এর মধ্যে থাকবে ব্রেইন-কম্পিউটার ইন্টারফেস, ক্লাউডভিত্তিক সচেতনতা এবং শরীরে ন্যানোবট, যা রোগ প্রতিরোধ ও বার্ধক্য রোধে কাজ করবে।

অবারি ডি গ্রে বার্ধক্যকে একটি চিকিৎসাযোগ্য রোগ হিসেবে দেখেন এবং বিশ্বাস করেন, ২০৫০ সালের মধ্যে বার্ধক্য পুরোপুরি সারানো সম্ভব হবে। তাঁর মতে, দীর্ঘায়ু মানুষকে জীবন থেকে উদাসীন করে তুলবে—এ ধারণা ভুল।

ব্রিটিশ বিজ্ঞানী ইয়ান পিয়ারসনের ধারণা, প্রথমদিকে কেবল ধনীরাই এই প্রযুক্তির সুবিধা পাবেন। জিন প্রকৌশল ও ডিজিটাল চেতনাকে কৃত্রিম দেহে স্থানান্তরের মাধ্যমে তারা হাজার বছরের আয়ু পেতে পারেন। তবে সময়ের সাথে এটি মধ্যবিত্তদের কাছেও পৌঁছাবে বলে তিনি আশাবাদী।

তবে সমালোচকেরা বলছেন, প্রযুক্তি একা সব সমস্যার সমাধান নয়। ২০২৪ সালের এক গবেষণায় দেখা যায়, দারিদ্র্যের মতো জটিল সমস্যায় বহুস্তরীয় সমাধান দরকার, যেখানে প্রযুক্তি কেবল একটি অংশ।

প্রযুক্তি-নির্ভর এই ‘অমরত্বের স্বপ্ন’ বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে, তা সময়ই বলে দেবে। তবে গবেষকদের দৃঢ় বিশ্বাস, ২০৫০ সালের মধ্যে মানুষের আয়ু ১০০০ বছর—এটি কেবল কল্পনা নয়, হতে পারে বাস্তবতার দ্বারপ্রান্তে।

তথসূত্র

প্রিন্ট করুন