

হাঁসের মাংস খেতে ওয়েস্টিনে আসিফ মাহমুদ গিয়েছিলেন ভোররাতে, তবে সেটি ছিল নীলা মার্কেট বন্ধ থাকার কারণে—এমনটা জানালেন স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা নিজেই। সাংবাদিকদের প্রশ্নে তিনি বলেন, মাঝেমধ্যে কাজ শেষে ভোর হয়ে যায়। তখন ৩০০ ফিটের নীলা মার্কেটে হাঁসের মাংস খেতে যাই। সেটা বন্ধ থাকলে ওয়েস্টিন হোটেলে যাওয়া হয়।
বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, “রাতে কাজ শেষে কখনো কখনো ভোর হয়ে যায়। তখন বাসায় খাবার থাকে না। তাই ৩০০ ফিটের নীলা মার্কেটে যাই হাঁসের মাংস খেতে। তবে ওইদিন ওয়েস্টিনে গিয়েছিলাম কি না, বলতে পারব না।”

এই মন্তব্যের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়।
উপদেষ্টার এই বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্ট দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে দেওয়া ফেসবুক পোস্টে পার্থ লিখেছেন: এক সময় ভাত খুঁজতো ক্যান্টিনে, এখন হাঁস খোঁজে ওয়েস্টিনে।
এই স্ট্যাটাসটি রাজনৈতিকভাবে ইঙ্গিতপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। তবে পার্থ স্পষ্ট করেননি যে তিনি কার উদ্দেশ্যে এটি পোস্ট করেছেন।
সাংবাদিকরা তাকে জানান, ভিডিও ফুটেজে ১৭ জুলাই হেলমেট পরা কাউকে ওয়েস্টিনের সামনে দেখা গেছে। জবাবে তিনি বলেন, “ফুটেজে হেলমেট পরা কাউকে দেখিয়ে যদি বলা হয় আমি, এটা কতটা বিশ্বাসযোগ্য? বিষয়টি তদন্তাধীন, তাই বেশি কিছু বলব না।”
চাঁদাবাজির অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি সরাসরি অস্বীকার করে বলেন, “এটা পুরোপুরি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আমার কোনও সম্পৃক্ততা নেই। যাঁর সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে, সেটা জোর করে একটি রাজনৈতিক নেতার বাসায় করানো হয়েছে—এমন অভিযোগ উঠে এসেছে। তার পরিবারও সেটি বলছে। বিষয়টি গুরুতর।”
জানে আলম অপু সম্পর্কে আসিফ মাহমুদ জানান, “২০২২ সালে ছাত্র রাজনীতি করতে গিয়ে চিনতাম। এরপর ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর তার সঙ্গে কোনও যোগাযোগ হয়নি।”
এদিকে, চাঁদাবাজির ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া অপু এক ভিডিওতে বলেন, “ওইদিন ভোর ৫টায় পুলিশ নিয়ে অভিযান চালানোর আগে উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের সঙ্গে আমার কথা হয়। তারপরই শাম্মীর (সাবেক এমপি) বাসায় অভিযান করি।”
অপু আরও বলেন, “আমি নিজেই চাঁদার টাকার ব্যাগ নিয়েছি। সিসিটিভি ফুটেজে যে ছেলে দেখা যাচ্ছে, সেটা আমি। একসময় যারা মহানায়ক ছিল, এখন তারা হয়ে গেছে চাঁদাবাজ। আমি শুধু প্রশ্ন করছি—আসলে ঘটনা কী?”
এই ভিডিও ঘিরেই মূলত আসিফ মাহমুদের ভোররাতের হাঁসের মাংস খাওয়া এবং ওয়েস্টিনে যাওয়া প্রসঙ্গ উঠে আসে। তবে তিনি বারবার এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “হাঁসের মাংস খেতে ওয়েস্টিনে আসিফ মাহমুদ” বলা যতটা নাটকীয় শোনায়, বাস্তবতা তা নয়।