

ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে রিকশাচালক আজিজুর রহমান ফুল দিতে গিয়ে গণপিটুনির শিকার হয়েছিলেন। এখন তিনি আছেন কারাগারে—একটি পুরনো হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাঁকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
আজ শনিবার ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ইশরাত জেনিফার জেরিন তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। পুলিশ জানায়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন নিয়ে দায়ের হওয়া মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

ধার্য তারিখে আদালতে হাজির করেন ধানমন্ডি থানার উপপরিদর্শক মোহাম্মদ তৌহিদুর রহমান। তিনি তদন্তের স্বার্থে রিকশাচালক আজিজুর রহমানকে কারাগারে রাখার আবেদন করেন, এবং আদালত তা মঞ্জুর করেন।
আসামিপক্ষের আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন রাখী বলেন, “৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুকে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে গণপিটুনির শিকার হয়েছেন আজিজুর। অথচ এখন তাকেই কারাগারে পাঠানো হলো হত্যাচেষ্টা মামলায়।”
আজিজুর রহমান নিজে বলেন, “আমি কোনো রাজনৈতিক দলের কর্মী নই। শুধু বঙ্গবন্ধুকে ভালোবাসি, তাই নিজের উপার্জনের টাকা দিয়ে ফুল কিনে এসেছিলাম শ্রদ্ধা জানাতে।”
এই মামলার অভিযোগ বলছে, গত বছর ৪ আগস্ট ‘জুলাই আন্দোলন’ চলাকালে ধানমন্ডির নিউমার্কেট থেকে সায়েন্স ল্যাব পর্যন্ত এক মিছিলের সময় পেট্রলবোমা ও হাতবোমা নিক্ষেপ হয়। এতে আহত হন মো. আরিফুল ইসলাম, যিনি দুই মাস চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে এ বছর ২ এপ্রিল হত্যা প্রচেষ্টার মামলা করেন।
সেই মামলায় এবার গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে রিকশাচালক আজিজুর রহমান-কে। তদন্ত কর্মকর্তার দাবি, সাক্ষ্য-প্রমাণে তাঁর সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। তবে ঘটনা, গ্রেপ্তার ও মামলার সময়রেখা ঘিরে প্রশ্ন উঠেছে—এটা বিচার না রাজনীতি?