
কুমিল্লায় সড়ক সংস্কারে অনিয়ম এখন নিত্যদিনের বাস্তবতা। চান্দিনা উপজেলার কুটুম্বপুর থেকে কেশরা পর্যন্ত সাড়ে ছয় কিলোমিটারের একটি সড়ক সংস্কারের জন্য ৯ কোটি টাকা বরাদ্দ পেলেও কাজের অগ্রগতি নগণ্য। দীর্ঘ ছয় মাসেও ঠিকাদার কার্পেটিং পর্যন্তও পৌঁছাতে পারেননি। বরং চলতি বর্ষায় বিভিন্ন স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে, সড়কজুড়ে গর্ত হয়ে উঠেছে যান চলাচলের অযোগ্য।

এটি কেবল একটি উদাহরণ মাত্র। জেলার অন্তত অর্ধ শতাধিক সড়কে চলছে একই চিত্র—ধীরগতির কাজ, নিম্নমানের সামগ্রী, আর দুর্নীতি। এলজিইডি এমন অনিয়মের জন্য ৪০টি ঠিকাদারিকে ৩ কোটি ১৩ লাখ টাকারও বেশি জরিমানা করেছে। অনেকে শাস্তি হিসেবে কাজ বাতিল বা কালো তালিকাভুক্তির আওতায় এসেছে।
চরম দুর্ভোগে রয়েছে কুমিল্লার কোটবাড়ির রাজারখোলা-শ্রীবিদ্যা-বড়ধর্মপুর সড়ক। ৮৪৪০ মিটার দৈর্ঘ্যের এ সড়কটির কাজ শুরু হয় পাঁচ বছর আগে। মেসার্স মদিনা কনস্ট্রাকশন ও ল্যান্ড মার্ক বিল্ডার্স যৌথভাবে প্রকল্পটি পেলেও আজও কাজ শেষ হয়নি। বরং পানি নিষ্কাশনের কালভার্ট ভেঙে ফেলায় এলাকাবাসী আরও ক্ষুব্ধ।
স্থানীয় বাসিন্দা ফজলুল করিম বলেন, “গত বছর ৫ আগস্ট কাজ বন্ধ রেখেই তারা পালিয়ে যায়। মাস তিনেক আগে কিছু ইট ফেলেছে, তাও এখন বৃষ্টিতে ভেঙে গেছে। পাঁচ বছর ধরে শুধু দুর্ভোগই দেখছি।”
৭০ বছর বয়সী আবদুর রউফ বলেন, “সরকারি টাকার নামে শুধু লুটপাট চলছে। জরিমানা নয়, ঠিকাদারদের আইনের আওতায় আনতে হবে।”
চান্দিনার মুরাদপুর এলাকার আবদুল বাতেন বলেন,
“নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে কাজ হচ্ছে, আমরা প্রতিবাদ করেছি। মিডিয়ায় খবর হয়েছে, কিন্তু ফল কিছুই হয়নি।”
কুমিল্লায় সড়ক সংস্কারে অনিয়ম ঠেকাতে এলজিইডির নেওয়া পদক্ষেপে যেসব প্রতিষ্ঠানকে শাস্তির আওতায় আনা হয়েছে, তাদের মধ্যে রয়েছে:
কুমিল্লা এলজিইডির সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী আশরাফ জামিল বলেন, “ঠিকাদারদের গাফিলতির কারণে পুরো এলাকাবাসী যাতায়াত সুবিধা থেকে বঞ্চিত। এটি শুধু কারিগরি ব্যর্থতা নয়, সামাজিক অপরাধ।”
তিনি আরও বলেন, “এ ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে আমরা কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছি, ভবিষ্যতে আইনগত পদক্ষেপও নেওয়া হবে।”