প্রিন্ট এর তারিখঃ শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬, ১১ আষাঢ় ১৪৩৩

এনজিও ঋণের চাপে আত্মহত্যা: রাজশাহীতে একই পরিবারের চারজনের হৃদয়বিদারক মৃত্যু

এনজিও ঋণের চাপ আত্মহত্যা
মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী

এনজিও ঋণের চাপে আত্মহত্যা- মিনারুল ইসলাম ও তার পরিবার ঋণের চাপের কারণে জীবন শেষ করার পথ বেছে নিলেন; বাকি গ্রামের মানুষ শোকস্তব্ধ

রাজশাহীর পবা উপজেলার পারিলা ইউনিয়নের বামুনশিকড় গ্রামে এনজিও ঋণের চাপে আত্মহত্যা করেছেন মিনারুল ইসলাম তার স্ত্রী মনিরা বেগম (৩২), ছেলে মাহিন (১৩) এবং কন্যা মিথিলা (১.৫)।  ধারনা করা হচ্ছে এ আত্মহত্যা হতাশা থেকে করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। মৃতদের পাশে পাওয়া চিরকুটে এই বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে।

এনজিও ঋণের চাপ আত্মহত্যা
মিনারুল ইসলাম তার স্ত্রী মনিরা বেগম (৩২), ছেলে মাহিন (১৩) এবং কন্যা মিথিলা (১.৫) হত্যা করে আত্মহত্যা করেছেন। ছবি : সংগৃহিত।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৪ আগস্ট বিকেলে দুটি বেসরকারি সংস্থার (এনজিও) কর্মকর্তা মিনারুলকে ঋণ পরিশোধের জন্য চাপ দেন এবং আলটিমেটাম দেন। ১৫ আগস্ট সকালে মিনারুলের ঘর থেকে চারজনের নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়। চিরকুটে লেখা ছিল, ‘আমরা মরে গেলাম, ঋণের দায়ে আর খাবারের অভাবে।’

মৃত্যুর আগের দিন মিনারুল দিনভর টাকা সংগ্রহের চেষ্টা করেছেন। স্থানীয়রা জানায়, তিনি স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে বসে নিজের বাবাকে ফোন করে বলেছিলেন, ‘আমার জন্য আপনাকে আর ছোট হতে হবে না, মানুষের কাছে খারাপ হতে হবে না। আমি খুব ধারদেনার মধ্যে আছি, আমাকে মাফ করে দিয়েন।’

পুলিশ জানিয়েছে, মিনারুল প্রায় এক বছর আগে টিএমএসএস থেকে ৩০ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। নিয়মিত কিস্তি পরিশোধের পর অবশিষ্ট ছিল মাত্র ২,২৫০ টাকা। ধারণা করা হচ্ছে, অন্য এনজিও এবং স্থানীয় ঋণও তাকে অতিরিক্ত চাপের মধ্যে ফেলে দিয়েছিল।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, গ্রামে বিভিন্ন এনজিও ঋণ দেয়ার পাশাপাশি চাপ প্রয়োগ করে ঋণগ্রহীতাদের। কেউ একটি এনজিও থেকে ঋণ শোধ করতে গিয়ে অন্য এনজিও থেকে ঋণ নেন, যার ফলে ঋণের চক্র চলতে থাকে এবং হতাশা বৃদ্ধি পায়।

মোছা রোজিনা বেগম নামের স্থানীয় এক নারী বলেন, ‘মাসে ১৫ হাজার টাকার আয় থাকা ব্যক্তি যদি ১০ হাজার টাকা কিস্তি দেয়, তাহলে সংসার কীভাবে চলবে? অনেকেই সহজেই ঋণ পেয়ে নেশা বা জুয়ার মধ্যে টাকা শেষ করে দেয়, পরে ঋণের চাপ বৃদ্ধি পায়।’

পারিলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাঈদ আলী মোর্শেদ জানান, মিনারুলের ছোট মেয়ের অসুস্থতার কারণে পরিবার আবার ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েছিল। তিনি আরও জানান, এলাকার মাদক ও জুয়া বিস্তারও বিষয়টিকে জটিল করে তুলেছে।

মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মালেক বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে ধারদেনার চাপের কারণে এই ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।’

এনজিও ঋণের চাপে আত্মহত্যা- এই ঘটনাটি আবারও প্রমাণ করছে, ঋণগ্রস্তদের ওপর অতিরিক্ত চাপ ও সমর্থনের অভাব কতটা বিপজ্জনক হতে পারে।

প্রিন্ট করুন