প্রিন্ট এর তারিখঃ মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩

ইউনুস সরকারের বাধায় ১৫ আগস্ট: বঙ্গবন্ধুর হৃদয়ে ফেরার দিন

ইউনুস সরকারের বাধায় ১৫ আগস্ট
মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী

ইউনুস সরকারের বাধায় ১৫ আগস্ট, মব, নিষেধাজ্ঞা আর চোখ রাঙানির পরও জাতির পিতার জন্য মানুষের ভালোবাসা নতুন রূপে ফুঁসে উঠেছে।

ইউনুস সরকারের বাধায় ১৫ আগস্ট বাঙালির শোক প্রকাশের অধিকারকে থামিয়ে দিতে পারেনি—বরং তা বঙ্গবন্ধুকে আরও শক্তিশালীভাবে ফিরিয়ে এনেছে কোটি মানুষের হৃদয়ে।

১৫ আগস্ট। বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে শোকাবহ দিন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবারের নির্মম হত্যাকাণ্ড আজও প্রতিটি বাঙালির হৃদয়ে ক্ষত হয়ে আছে। এই দিনটিতে দেশের মানুষ ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে এসে শ্রদ্ধা জানায়, ভালোবাসা জানায়।

ইউনুস সরকারের বাধায় ১৫ আগস্ট
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান

কিন্তু এবার, ইউনুস সরকারের বাধা ১৫ আগস্ট-এর পথ রুদ্ধ করেছিল। শোক প্রকাশেও নিষেধাজ্ঞা জারি হয়। ধানমন্ডি ৩২ এ মানুষের প্রবেশে বাধা, রাস্তায় মোতায়েন মব ও পুলিশ—সবমিলিয়ে সরকার যেন ঘোষণা দিয়েছিল, বঙ্গবন্ধুকে শ্রদ্ধা জানানো অপরাধ।

তবুও থেমে থাকেনি ভালোবাসা। ইতিহাস আবারো প্রমাণ করেছে, কোনো শাসকের আদেশ, লাঠি কিংবা নিষেধাজ্ঞা মানুষের অন্তরের শ্রদ্ধা থামাতে পারে না।

রিকশাচালক আজিজুলের অশ্রু ও প্রতিবাদ

আজিজুল, এক খেটে খাওয়া রিকশাচালক। দিনের উপার্জন থেকে টাকা জমিয়ে রেখেছিলেন শুধু একটি ফুল কেনার জন্য, বঙ্গবন্ধুকে শ্রদ্ধা জানাতে। কিন্তু ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের মোড়ে তাঁকে আটকে দেয় সরকারের লোকজন।

তিনি ফিরে যান। কিন্তু তাঁর অশ্রুসিক্ত চোখ, বুকের হাহাকার হয়ে ওঠে কোটি শ্রমজীবী মানুষের প্রতিচ্ছবি। সে মুহূর্তে স্পষ্ট হয়ে যায়—ইউনুস সরকারের বাধা ১৫ আগস্ট তাঁকে থামাতে পারেনি, বরং বঙ্গবন্ধুর প্রতি ভালোবাসাকে আরও শক্তিশালী করেছে।

শহীদ পরিবারের কান্না, যা স্তব্ধ করল জাতিকে

এক শহীদ মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী হাতে ফুল নিয়ে এসেছিলেন ধানমন্ডি ৩২-এ। তাঁর স্বপ্ন ছিল শহীদের উত্তরসূরী হয়ে জাতির পিতাকে শ্রদ্ধা জানানো। কিন্তু মব তাকেও আটকে দেয়।

ক্যামেরায় ধরা পড়ে তাঁর কান্না, চোখের জল, আর্তি—“হায়! আমি বঙ্গবন্ধুকে শ্রদ্ধা জানাতে পারলাম না।” এই দৃশ্য পুরো জাতিকে কাঁদিয়েছে। মানুষ বুঝেছে, বাধা দিয়ে শ্রদ্ধার আগুন নেভানো যায় না।

ধর্মপ্রাণ মানুষের দোয়া ঠেকানো—আরও বড় অন্যায়

পিরোজপুর থেকে আসা এক মাওলানা পরিবারের সঙ্গে এসেছিলেন বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারের আত্মার মাগফিরাত কামনায়। কিন্তু তাকেও ঢুকতে দেওয়া হয়নি।

তিনি বলেছিলেন, “একজন মুসলমান হয়ে আরেকজন মুসলমানের রুহের জন্য দোয়া করাও যদি অপরাধ হয়, তবে এর বিচার কে করবে?” এই প্রশ্ন যেন সারা দেশের অন্তর কাঁপিয়ে দিয়েছিল।

সোশ্যাল মিডিয়ায় ভালোবাসার বিপ্লব

যেখানে ফিজিক্যাল প্রবেশ থেমে গেছে, সেখানে মানুষের মন ছড়িয়ে গেছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। ফেসবুক, টুইটার, ইনস্টাগ্রামে ঝড় উঠেছে শ্রদ্ধার। মানুষ ঘরে ঘরে বঙ্গবন্ধুর ছবি ছেপে ফুল দিয়েছে, কবিতা লিখেছে, কার্ড বানিয়েছে, চোখের জলে ভিজিয়ে রেখেছে স্মৃতি।

এত বিশুদ্ধ ভালোবাসা আগে কখনো দেখা যায়নি। আওয়ামী লীগ যখন ক্ষমতায় ছিল, কোটি টাকা খরচ করেও এমন আত্মিক শ্রদ্ধার ঢল আসেনি।

ইউনুস সরকারের বাধা ১৫ আগস্ট-কে বদলে দিল এক গণভালোবাসার আন্দোলনে।

বঙ্গবন্ধুর নতুন রূপে প্রত্যাবর্তন

আজ ইতিহাস বলছে—বঙ্গবন্ধুকে কিছু স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী রাজনৈতিক বন্দিশালায় আটকে রাখতে চেয়েছিল। কিন্তু ব্যর্থ হয়েছে। কারণ, তিনি ফিরে এসেছেন মানুষের হৃদয়ে।

রিকশাচালক আজিজুল, শহীদ মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী, গ্রামের মাওলানা, শহরের ছাত্র—সবাই আজ বঙ্গবন্ধুকে নিজের প্রতিচ্ছবি হিসেবে দেখছে।

তিনি নেতা নন, তিনি হয়ে উঠেছেন আত্মার প্রতীক। আজ মানুষ বলছে—বঙ্গবন্ধু ফিরে এসেছেন শ্রমিকের চোখের জলে, শহীদের স্তব্ধ কণ্ঠে, প্রার্থনার শব্দে, সন্তানের ভালোবাসায়।

শেষ কথা

এই শোক দিবস আমাদের মনে করিয়ে দিল, ইতিহাসকে কেউ থামাতে পারে না। যে ভালোবাসা হৃদয় থেকে আসে, তাকে পুলিশ থামাতে পারে না। মব ঠেকাতে পারে না।

ইউনুস সরকারের বাধা ১৫ আগস্ট দিনটিকে নিষ্প্রাণ করতে চেয়েছিল, কিন্তু তারাই বঙ্গবন্ধুর হৃদয়ে ফেরার দিন গড়ে দিয়েছে।

বঙ্গবন্ধু আজও জীবন্ত। তিনি শুধু একটি নাম নন, তিনি একটি আদর্শ, একটি জাতির আত্মপরিচয়। তাঁর রক্ত, ত্যাগ, স্বপ্ন—আজও এই দেশের প্রতিটি হৃদয়ে ধ্বনিত হয়।

তুমি ফিরেছো, বঙ্গবন্ধু—শ্রমিকের অশ্রুতে, শহীদের কণ্ঠে, প্রার্থনার ধ্বনি, সন্তানের ভালোবাসায়। তুমি আছো, বাঙালির অনন্ত সত্তায়।

প্রিন্ট করুন