
কুমিল্লায় তরুণীর পেট থেকে ১০ কেজি টিউমার অপসারণ করা হয়েছে একটি বেসরকারি হাসপাতালে। গত ২১ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৮টা থেকে টানা দুই ঘণ্টা ধরে এই জটিল অস্ত্রোপচার সফলভাবে সম্পন্ন হয়।
ভুক্তভোগী তরুণী শেফালি জানান, প্রায় এক বছর ধরে সামান্য ব্যথা অনুভব করলেও গুরুত্ব দেননি। সম্প্রতি ব্যথা বেড়ে গেলে চিকিৎসকের পরামর্শে আলট্রাসনোগ্রাম ও সিটি স্ক্যানে বিশাল টিউমারের অস্তিত্ব ধরা পড়ে। এরপর চিকিৎসকদের সিদ্ধান্তে দ্রুত অস্ত্রোপচারের ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
অস্ত্রোপচারের পর হাসপাতালের বেডে শুয়ে শেফালি বলেন, “পেটে ব্যথা ছিল, ভেবেছিলাম সাধারণ ব্যথা। পরে জানতে পারি পেটে ১০ কেজি টিউমার ছিল! এখন আলহামদুলিল্লাহ অনেক ভালো আছি।”
সার্জারি বিশেষজ্ঞ ডা. মো. আবু বকর ছিদ্দিক ফয়সল জানান, সিটি স্ক্যানে দেখা যায় টিউমারটি জরায়ুর নালী থেকে সৃষ্টি হয়েছে এবং রোগীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় ব্যাঘাত ঘটাচ্ছিল। তিনি বলেন, “টিউমারটির ওজন ছিল প্রায় ৮ থেকে ১০ কেজি। সফলভাবে অপসারণ করা হয়েছে। রোগী এখন সুস্থ আছেন। তবে তাকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং তিন মাস কোনো ভারী কাজ করতে নিষেধ করা হয়েছে।”
অপারেশনে অংশ নেন ডা. আবু বকর ছিদ্দিক ফয়সল, ডা. ইবনে মমিন জনি, ডা. অনির্বান ও অ্যানেস্থেসিওলজিস্ট ডা. মেহেদি হাসান।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আগামী ৫ থেকে ৭ দিনের মধ্যে শেফালিকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হতে পারে। কুমিল্লায় তরুণীর পেট থেকে ১০ কেজি টিউমার অপসারণ সংবাদটি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

