
প্রাণবন্ত আড্ডায় রাজনীতি ও উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা, শেষে অসহায় চার নারীর জীবনে আশার আলো জ্বালালেন সাবেক মন্ত্রী
রাজনীতি মানে মানুষের কথা শোনা, তাদের মনের আশা-আকাঙ্ক্ষা বোঝা—এই বিশ্বাস থেকেই কুমিল্লা–৩ (মুরাদনগর) আসনের সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও পাঁচবারের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ অংশ নেন “জনতার খোশগল্পে”।
গত সোমবার মুরাদনগরে আয়োজিত এই খোশগল্পে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষক, ব্যবসায়ী, তরুণ, নারী ও প্রবীণরা। এক আরামদায়ক বিকেলে সদুর প্রবাস থেকে টেলিফোনে কায়কোবাদ সাহেব সরাসরি জনতার মুখোমুখি হন, শোনেন তাদের মতামত, শেয়ার করেন নিজের ভাবনা।
তিনি বলেন, “রাজনীতি কেবল ক্ষমতার বিষয় নয়, এটি মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা ও তাদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি।”
খোলামেলা এই আলোচনায় উঠে আসে স্থানীয় উন্নয়ন, শিক্ষার মানোন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবা, তরুণদের কর্মসংস্থান ও নারীর নিরাপত্তা—সবই।
উপস্থিত সবাই মনে করেন, এই ধরণের “জনতার খোশগল্প” রাজনীতিকে আরও মানবিক করে তুলছে।
খোশগল্পের পর মানবিক গল্প
এই আলোচনা শেষে কায়কোবাদের মানবিক দিকটি নতুন করে আলোচনায় আসে।
স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী সম্প্রতি মুরাদনগরের চার অসহায় নারীর করুণ জীবনচিত্র প্রকাশ করেন। খবরটি জানার পর কায়কোবাদ সাহেব নিজেই ফোন করে বলেন,
“চার নারীর বিষয়টি আমি ব্যক্তিগতভাবে দেখব এবং সহযোগিতার ব্যবস্থা করব।”
এই প্রতিশ্রুতির খবর পৌঁছাতেই নারীরা আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন।
তাদের চোখে ভেসে ওঠে দীর্ঘদিন পর ফিরে পাওয়া আশার আলো।
একজন বলেন,
“অনেকদিন পর কেউ আমাদের খবর নিয়েছে, পাশে থাকার কথা বলেছে—এ যেন নতুন করে বাঁচার সাহস।”
চার নারীর পরিচয় ও সহায়তা উদ্যোগ
১️⃣ সুমি আক্তার, পায়ব পশ্চিমপাড়া, ইউনিয়ন ১৭ নং জাহাপুর।
২️⃣ তাছলিমা আক্তার, দারোরা গ্রাম, ইউনিয়ন ১৯ নং দারোরা।
৩️⃣ গৃহহীন হাসিনা বেগম, কাজিয়াতল মুন্সী বাড়ির পাশের বাড়ি, ইউনিয়ন ১৯ নং দারোরা।
৪️⃣ গৃহহীন লিপি আক্তার, লক্ষ্মীপুর গ্রামের মান্নানের বাড়ি, ইউনিয়ন ১৬ নং ধামঘর।
এই নারীরা কেউ সংসার হারিয়েছেন, কেউ অবহেলায় হারিয়েছেন আশ্রয়।
তবু জীবনযুদ্ধে হার না মানা এই মানুষগুলোর পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছেন গণমাধ্যমকর্মী শরিফুল আলম চৌধুরী।
তার তত্ত্বাবধানে চারটি সেলাই মেশিন ও দুইজন গৃহহীন নারীর জন্য স্বাস্থ্যসম্মত ঘর নির্মাণের আবেদন করা হয়।
কায়কোবাদের সহযোগিতার আশ্বাসে এখন তাদের মুখে ফুটে উঠেছে আত্মবিশ্বাসের হাসি।
তারা বলেন,
“আমরা দান চাই না, শুধু নিজের পরিশ্রমে বাঁচার সুযোগ চাই।”
জনতার আস্থা ফিরে পাচ্ছে মুরাদনগর
কায়কোবাদের এমন উদ্যোগে মুরাদনগরের মানুষের মধ্যে নতুন করে জেগেছে আস্থা ও আশাবাদ।
স্থানীয়দের ভাষায়, “জনতার খোশগল্প” এখন কেবল এক বৈঠক নয়—এটি হয়ে উঠেছে এক মানবিক প্ল্যাটফর্ম, যেখানে রাজনীতি মানে মানুষের পাশে দাঁড়ানো।
শেষ পর্যন্ত বলা যায়, কায়কোবাদের এই উদ্যোগ প্রমাণ করেছে—
জনতার সঙ্গে গল্প থেকে জন্ম নিতে পারে পরিবর্তনের গল্পও।

