প্রিন্ট এর তারিখঃ রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

শচীন দেববর্মণ স্মরণে কুমিল্লায় দুই দিনব্যাপী উৎসব

Rising Cumilla S. D. Burman
মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী

কিংবদন্তি শিল্পীর জন্ম ও প্রয়াণ উপলক্ষে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে আলোচনা, সংগীতানুষ্ঠান ও প্রদর্শনী

কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী, সুরকার ও সংগীত পরিচালক শচীন দেববর্মণের জন্মদিন ১ অক্টোবর এবং প্রয়াণ দিবস ৩১ অক্টোবর। এই মহাতারকার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তাঁর জন্মভূমি কুমিল্লায় জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে দুই দিনব্যাপী বিশেষ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে ‘শচীন স্মরণ অনুষ্ঠান’-এর প্রস্তুতিসভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে কুমিল্লার বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, আগামী ৩০ ও ৩১ অক্টোবর কুমিল্লায় অনুষ্ঠিত হবে এই দুই দিনব্যাপী কর্মসূচি। এতে থাকবে আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, স্মৃতিচারণ এবং প্রদর্শনী। অনুষ্ঠানস্থলে শচীন দেববর্মণের বর্ণিল জীবন, কর্ম, বিরল আলোকচিত্র ও সংগীত উত্তরাধিকারকে তুলে ধরা হবে।

জেলা প্রশাসনের এক কর্মকর্তা বলেন,

“এই আয়োজন কেবল স্মরণ নয়, বরং নতুন প্রজন্মকে শচীন দেববর্মণের সংগীত দর্শন ও সৃষ্টিশীলতার সঙ্গে পরিচিত করানোর এক গুরুত্বপূর্ণ প্রচেষ্টা।”

সংস্কৃতিপ্রেমী ও সংগীতানুরাগীদের মধ্যে ইতোমধ্যেই ব্যাপক উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে এই আয়োজনকে ঘিরে।


কর্মসূচিতে যা থাকছে:

  • শচীন দেববর্মণের জীবন ও কর্ম নিয়ে বিশেষ আলোচনা সভা।
  • তাঁর সুরে গাওয়া বাংলা ও হিন্দি জনপ্রিয় গান পরিবেশনা।
  • তরুণ শিল্পীদের অংশগ্রহণে মুক্ত সংগীতানুষ্ঠান।
  • স্থানীয় সংগীত, হস্তশিল্প ও বইয়ের প্রদর্শনী।

শচীন দেববর্মণ: কুমিল্লার গর্ব, দুই বাংলার প্রেরণা

রাজপরিবারে জন্ম নেওয়া কুমিল্লার কৃতি সন্তান শচীন দেববর্মণ ছিলেন এক অসাধারণ সংগীতপ্রতিভা। বাংলা ও হিন্দি উভয় ভাষার সংগীতে তিনি রেখে গেছেন অমর পদচিহ্ন। তাঁর সুর ও কণ্ঠ আজও দুই বাংলার সংগীতপ্রেমীদের হৃদয়ে চির অম্লান।

তাঁর কালজয়ী গানগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য—
‘তাকডুম তাকডুম বাজাই’, ‘বাঁশি শুনে আর কাজ নাই’, ‘বর্ণে গন্ধে ছন্দে গীতিতে’, ‘বিরহ বড় ভালো লাগে’, ‘মন দিল না বধু’, ‘শোনো গো দখিনো হাওয়া’, ‘তুমি আর নেই সে তুমি’, ‘তুমি এসেছিলে পরশু’ ও ‘রঙিলা রে’।

আয়োজকদের প্রত্যাশা, এই আয়োজন কুমিল্লাকে আবারো ফিরিয়ে নেবে শচীনের স্মৃতির আবহে এবং তরুণ প্রজন্মকে তাঁর সংগীতচর্চা ও উত্তরাধিকার সংরক্ষণে অনুপ্রাণিত করবে।


প্রিন্ট করুন