ককটেল বিস্ফোরণ: উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসানের বাসার সামনে রহস্যজনক ঘটনা
রাজধানীর সেন্ট্রাল রোডে ঘটে যাওয়া ককটেল বিস্ফোরণ এখন উত্তপ্ত আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের বাসার সামনে রবিবার (১৬ নভেম্বর) রাত ৯টার দিকে দুটি ককটেল নিক্ষেপ করা হয়। বিস্ফোরণে কেউ হতাহত না হলেও ঘটনাটি ঘিরে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন ও সন্দেহ।
উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান গণমাধ্যমকে বিস্ফোরণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান—অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা দ্রুত এসে দুটি ককটেল নিক্ষেপ করে পালিয়ে যায়।
এর আগে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় রাজধানীর কারওয়ানবাজার সার্ক ফোয়ারা মোড়ে আরও দুটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়—সেখানেও হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
রায় ঘোষণার আগমুহূর্তে বিস্ফোরণের ধারা বাড়ছে
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিচার রায় ঘোষিত হবে আগামীকাল সোমবার।
এই রায়কে ঘিরে রাজধানীতে উত্তেজনা বিরাজ করছে। এমন সময় হঠাৎ করে কয়েকটি বিস্ফোরণের ঘটনা নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
নাশকতা নাকি নাটক—দুই ধরনের মতই ঘুরছে
গত সপ্তাহে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের দেওয়া ‘লকডাউন’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে বাসে-ট্রেনে অগ্নিসংযোগ ও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। এসব ঘটনার দায় নিয়ে পক্ষ-বিপক্ষ উভয়ই একে অন্যকে অভিযুক্ত করলেও এখনো নিশ্চিত প্রমাণ মেলেনি।
সেন্ট্রাল রোডের ককটেল হামলাকে ঘিরেও উঠছে তিন ধরনের প্রশ্ন—
এটি কি বাস্তব নাশকতা?
নাকি কাউকে দায়ী করার জন্য সাজানো নাটক?
নাকি রায় ঘোষণার আগে অস্থিরতা তৈরি করার কৌশল?
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক মত দেয়নি। তবে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তদন্ত শুরু হয়েছে।
রাজধানীতে নিরাপত্তা জোরদারের দাবি বাড়ছে
এক রাতেই দুই স্থানে ককটেল বিস্ফোরণ সরকারের নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর নতুন প্রশ্ন তুলেছে। নাগরিক ও বিশ্লেষকদের ধারণা—রায় ঘোষণার আগে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হতে পারে, তাই নিরাপত্তা বাহিনীকে বাড়তি সতর্ক হতে হবে।

আজকের কথা ডেস্ক