
প্রতিবন্ধী পরিবার: মুরাদনগরে তিন প্রতিবন্ধীর দায়িত্ব নিলেন সাবেক মন্ত্রী কায়কোবাদ
প্রতিবন্ধী পরিবার কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার আন্দিকোট ইউনিয়নে স্বপন মিয়ার তিন প্রতিবন্ধী সন্তানকে নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সংগ্রামে থাকা একটি পরিবারের দায়িত্ব নিয়েছেন সাবেক মন্ত্রী ও পাঁচবারের সংসদ সদস্য কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ। মানবিকতার অংশ হিসেবে তিনি পরিবারটিকে নগদ অর্ধলক্ষ টাকা প্রদান করেন এবং ভবিষ্যতের ভরণ–পোষণের দায়িত্ব নেন।
ধানের শীষের প্রচারণার সময় উপজেলা মহিলাদলের সভাপতি কাজী তাহমিনা আক্তার প্রথম দেখতে পান—স্বপন মিয়ার দুই ছেলে ও এক মেয়ে জন্মগতভাবে প্রতিবন্ধী। দিনমজুর বাবা স্বপন মিয়া সীমাহীন কষ্টে সন্তানদের লালন–পালন করছিলেন। পরে তিনি মোবাইল ফোনে কায়কোবাদকে পুরো ঘটনাটি জানান।
এই খবর পাওয়ার পর ১৫ নভেম্বর, শনিবার কায়কোবাদ এক প্রতিনিধি দল পাঠান। প্রতিনিধি দলে ছিলেন উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক কামাল উদ্দিন ভুইয়া, ফারুক সরকার মজিবসহ বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতারা। তারা পরিবারটির হাতে অর্ধলক্ষ টাকা তুলে দিয়ে জানান—৪২ বছর ধরে কায়কোবাদ অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে আসছেন, যার সঙ্গে নির্বাচনের সম্পর্ক নেই।
উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ফারুক সরকার মজিব বলেন,
“দাদা যেখানে অসহায় মানুষ পান, সেখানেই সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন। এই পরিবারের দায়িত্ব নেওয়া তাঁর মানবিকতার ধারাবাহিকতা।”
মহিলা দলের সভাপতি কাজী তাহমিনা আক্তার বলেন,
“দাদা আমাকে সবসময় বলেন—যেখানেই যাও, শুধুই প্রচারণা নয়; অসহায় মানুষের খোঁজ নিও। আমি এই পরিবারটির কথা জানালে তিনি সঙ্গে সঙ্গে সাহায্য পাঠান।”
সাহায্য পেয়ে আবেগে ভেঙে পড়েন স্বপন মিয়া। মুঠোফোনে কায়কোবাদের উদ্দেশে তিনি বলেন,
“দাদা, আমার মতো গরিবের খবর নেওয়ার জন্য জীবন দিয়েও আপনার উপকার শোধ করতে পারব না।”
প্রতিউত্তরে সাবেক মন্ত্রী কায়কোবাদ বলেন,
“ভাই, তোমাদের সেবা করা আমার দায়িত্ব। যে কোনো প্রয়োজনে জানাও, আর নামাজ ঠিকমতো পড়বা।”
প্রতিনিধি দল সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার পর তিন প্রতিবন্ধী সন্তানের মুখে আনন্দের হাসি ফুটে ওঠে, যা পুরো গ্রামের মানুষকে আবেগী করে তোলে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন মহিলা দলের কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক শামীমা আক্তার রুবি, জাপান বিএনপির সহ–সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন সজিব, মহিলা দল নেত্রী রোকেয়া সুলতানা হক রুজি, ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আবুল কাশেমসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
প্রতিবন্ধী পরিবারটিকে সহায়তার মাধ্যমে সাবেক মন্ত্রী কায়কোবাদ শুধু মানবিকতার দৃষ্টান্তই স্থাপন করেননি, বরং দেখিয়েছেন—রাজনীতি ছাড়াও মানুষের পাশে দাঁড়ানোই একজন প্রকৃত নেতার পরিচয়।

