প্রিন্ট এর তারিখঃ মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বুলডোজার নিয়ে যাওয়া সবাই ‘রাজাকার’- শাওন

shaown bfbO1ut
আজকের কথা ডেস্ক

ধানমন্ডি ৩২ বুলডোজার: বুলডোজার দলকে ‘রাজাকার বাহিনী’ বললেন শাওন

ধানমন্ডি ৩২ বুলডোজার নাটক আবারও শুরু হয়েছে—মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় ঘোষণার দিন দুপুরে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের সামনে হঠাৎ করেই দুইটি বুলডোজার এনে হাজির হয় ‘রেড জুলাই’ নামের একদল তরুণ। ট্রাকের ওপর দাঁড়িয়ে মাইক হাতে স্লোগান দিচ্ছিল তারা—যেন ইতিহাস বিকৃতির দম্ভ দেখানোই তাদের প্রধান উদ্দেশ্য।

এই প্রকাশ্য উস্কানিমূলক প্রদর্শনীর পর অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওন আর চুপ থাকেননি। তীর ছুঁড়ে দিয়েছেন সরাসরি— “রাজাকার বাহিনী!”

একই সঙ্গে তিনি লিখেছেন,
“ভাঙা, পোড়ানো, হামলার পরও তোদের ভয় যায়নি। ধানমন্ডি ৩২-এর প্রতিটি ধূলিকণা এই দেশের আকাশে মিশে আছে—এটাকে অস্বীকার করার সাহস তোদের নেই!”

এর আগেও সেই একই দলীয় চেহারা—হামলা, ভাঙচুর, লুট, আগুন। গত বছরের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা বিদেশে যাওয়ার পরপরই বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিবিজড়িত বাড়িতে নির্বিচারে ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়।

তারও আগে, ৫ ফেব্রুয়ারির ‘বুলডোজার মিছিল’ ছিল ইতিহাসের সবচেয়ে পরিকল্পিত ও অমানবিক ভাঙচুরের নমুনা। হাজারো মানুষের উল্লাস, গান-বাজনা, নাচ—এ যেন রাষ্ট্রের প্রতীক ভেঙে ফেলার উৎসব। রাতভর ক্রেন, এক্সক্যাভেটর দিয়ে বাড়িটি মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হয়। সেনাবাহিনী এলেও ভিড়ের চাপ ও ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগানে তারা পিছিয়ে যেতে বাধ্য হয়।

বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে পবিত্র স্মৃতিচিহ্নটিকে বহুঘণ্টা ধরে যারা ধুলোয় মিশিয়েছে, তাদের পরিচয় ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা যতই হোক—জনগণ ভুলে যায়নি।

ধানমন্ডি ৩২ বুলডোজার আবারো ঘুরে দাঁড়ানোয় স্পষ্ট—ইতিহাসভ্রমণকারীরা থামেনি, থামবেও না। কিন্তু বুলডোজারের শব্দ যতই গর্জে উঠুক, ৩২ নম্বরের মাটি ভাঙলেও—বঙ্গবন্ধুর ইতিহাস ভাঙার ক্ষমতা তাদের নেই, কখনো ছিলও না।

প্রিন্ট করুন