হাসিনার রায়: ‘প্রহসনমূলক রায়’ প্রত্যাখ্যান করল শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ
হাসিনার রায় নিয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কঠোর প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেছেন, ঢাকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের এই রায় মূলত একটি সাজানো নাটক এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পদক্ষেপ। রায়ের পর পাঁচ পৃষ্ঠার বিবৃতিতে তিনি অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের লক্ষ্য হলো আওয়ামী লীগকে দুর্বল করা এবং তাকে রাজনৈতিকভাবে নিষ্ক্রিয় করা।
আজ সোমবার জুলাইয়ের অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ঘোষণা করা রায়ে শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। বিদেশে অবস্থানরত শেখ হাসিনা এই বিচারকে সরাসরি ‘প্রহসন’ বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “আমার বিরুদ্ধে অভিযোগের কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই। চাইলে এই বিষয়টি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে পাঠাক—আমি ভয় পাই না।”
তিনি আরও বলেন, তার দীর্ঘ সময়ের মানবাধিকার, গণতন্ত্র ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে বিকৃত করার অপচেষ্টা চলছে।
আওয়ামী লীগের বিস্ফোরক প্রতিক্রিয়া: ‘এই রায় জাতি মানে না’
আওয়ামী লীগ এই রায়কে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে।
দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেছেন—
“এ রায় প্রতিশোধমূলক। বাংলার মানুষ এ রায় মানে না, মানবেও না।”
৮৪ জন সাক্ষীর কথা থাকলেও আদালতে হাজির করা হয়েছে মাত্র ৫৪ জনকে, মাত্র ২০ দিন বিচার চলে। প্রধান বিচারক এক মাস অনুপস্থিত ছিলেন।
তার দাবি—সবকিছু পূর্বনির্ধারিত স্ক্রিপ্ট অনুযায়ী করা হয়েছে।
‘পূর্বলিখিত সিদ্ধান্ত’—আরও কঠোর ভাষায় আওয়ামী লীগের মন্তব্য
দলের মুখপাত্র মোহাম্মদ আলী আরাফাত বলেন—
“এটি বিচার নয়, রাজনৈতিক শো। আদালতকে ব্যবহার করে সাজানো রায় দেওয়া হয়েছে।”
রায়ের সারসংক্ষেপ
দুপুর ১২টা ৩৪ মিনিটে রায় পড়া শুরু হয়ে প্রায় আড়াই ঘণ্টা চলার পর আদালত জানায়—
শেখ হাসিনা মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী
সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কামাল দোষী
রাজসাক্ষী হওয়ায় সাবেক আইজিপি মামুনের সাজা কমিয়ে পাঁচ বছর
রায়টি সরাসরি সম্প্রচারিত হয় বিভিন্ন টেলিভিশন ও রাজধানীর বড় পর্দায়।
হাসিনার রায় নিয়ে দেশজুড়ে রাজনৈতিক উত্তাপ বৃদ্ধি পেয়েছে। আওয়ামী লীগ জানিয়েছে, এই রায়ের প্রতিবাদে তারা শাটডাউনসহ ধারাবাহিক কর্মসূচি দেবে এবং ‘অবৈধ সরকারকে’ পতনে বাধ্য করবে।

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী