প্রিন্ট এর তারিখঃ শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ২৪ আষাঢ় ১৪৩৩

ক্যাঙ্গারু রায়: শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডে বিতর্ক ও সরকারের ওপরে তীব্র সমালোচনা

৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ গৃহযুদ্ধ এড়িয়েছে
মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী

ক্যাঙ্গারু রায়: শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডে বিতর্ক ও সরকারের ওপরে তীব্র সমালোচনা

ক্যাঙ্গারু রায়—জনগণের দাবিতে এমনটাই বলা হচ্ছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেওয়া শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায়কে। অনেকে এটিকে সরকারের ব্যক্তিগত আক্রোশ ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার চরম বহিঃপ্রকাশ বলছেন। রায়ের ঘোষণা আসতেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে তীব্র প্রতিক্রিয়া। জনগণ স্পষ্ট জানিয়েছে, তারা এই রায় প্রত্যাখ্যান করছে।

মানবতাবিরোধী অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার দাবি তুলে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দেয় ট্রাইব্যুনাল। এরপরই বাংলাদেশ সরকার তাকে ফেরত চেয়ে ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ পাঠায়। কিন্তু এই পুরো প্রক্রিয়াই দেশ-বিদেশে এখন বড় প্রশ্নবোধক চিহ্ন।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের মুখে দিল্লিতে আশ্রয় নেওয়া হাসিনাকে ভারত ফেরত দেবে না—এমন ইঙ্গিত মিলেছে দেশটির বিশেষজ্ঞদের বক্তব্যে। তাদের মতে, রায়টি রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক এবং যথাযথ ন্যায়বিচারের মানদণ্ড পূরণ করেনি।

এদিকে জাতিসংঘ, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এবং অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল—তিনটি শীর্ষ সংগঠনই বলেছে, রায়টি “ন্যায়বিচারের পরিপন্থী”, “অস্বচ্ছ” এবং “সুষ্ঠু বিচার প্রক্রিয়াহীন”। তারা জানিয়েছে, অনুপস্থিতিতে বিচার, আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দেওয়া, আইনজীবী নিয়োগে বাধা—এসব গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন।

মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, হাসিনার প্রশাসনে গুরুতর নিপীড়ন ঘটেছিল—এটা সত্য। কিন্তু তাই বলে অন্যায় প্রক্রিয়ায় বিচার হলে তা ন্যায়বিচার নয়, বরং রাজনৈতিক প্রতিহিংসাকে বৈধতা দেওয়া।

ভারতের সাবেক ও বর্তমান নীতিনির্ধারকেরা মনে করেন—হাসিনাকে ফেরত দিলে সেটা ভারতবিরোধী পক্ষকে শক্তিশালী করবে এবং দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও খারাপ হবে। দিল্লি তাই “অপেক্ষা ও পর্যবেক্ষণ” নীতি নিচ্ছে।

আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো বলছে—মামলার সমালোচনীয় দিক এত বেশি যে মৃত্যুদণ্ড রায় পুরো বিচার প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। বিচারটি যেভাবে হয়নি, তার ফলে ভুক্তভোগীরাও সঠিক ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।

ক্যাঙ্গারু রায়—আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা, বাংলাদেশি জনগণ এবং পর্যবেক্ষকদের ভাষ্যে একটি অস্বচ্ছ ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত ফল। তাই এই রায় হিসেবে সরকার এখন শুধুই সমালোচনার মুখে নয়, বরং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার প্রশ্নেও কঠিন সন্দেহের বৃত্তে আটকা পড়েছে।

প্রিন্ট করুন