প্রিন্ট এর তারিখঃ শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ২৪ আষাঢ় ১৪৩৩

পুলিশ উভয়সঙ্কট: নতুন বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ঠাট্টা-তামাশায় পরিণত হয়েছে দায়িত্ব

FB IMG 1763495899197
মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী

পুলিশ উভয়সঙ্কট: লাঠিচার্জ নয়, গান-বাদ্য শেখানোর পরামর্শে সমালোচনা

পুলিশ উভয়সঙ্কট—নতুন বাংলাদেশের এই বাস্তব চিত্র এখন পুরোপুরি হাস্যকর ও দুঃসময়ের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। অতি-বিপ্লবীদের বাধা দিতেই হবে, কিন্তু লাঠিচার্জ করা যাবে না—এমন অদ্ভুত নির্দেশে পুলিশ এখন জনগণ ও সরকারের দুই দিক থেকেই প্রশ্নবিদ্ধ। বুলডোজার নিয়ে বাড়ি ভাঙতে আসা শত শত মানুষকে থামাতে হবে, তবুও লাঠি ব্যবহার করা যাবে না—এ যেন নীতিহীনতার এক অবাস্তব নিয়ম।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর এমন হাস্যকর চাপ দিয়ে তাদের দায়িত্ববোধকে দুর্বল করা হচ্ছে বলেই মনে করছেন অনেকে। পুলিশের কাজ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা—কিন্তু আচমকা তাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে অমানবিক শর্ত, যেখানে দায়িত্ব পালন করলেই সমালোচনা এবং দায়িত্ব না পালালেও সমালোচনা।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে ঠাট্টা-বিদ্রূপ—নাকি এবার পুলিশকে অস্ত্র প্রশিক্ষণ বাদ দিয়ে সঙ্গীত ও নৃত্যকলার কোর্স করানো উচিত? লাঠিচার্জ, টিয়ার গ্যাস বা সাউন্ড গ্রেনেড বাদ দিয়ে উত্তেজিত রাজনৈতিক কর্মীদের সামনে হারমোনিয়াম-তবলা বাজিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ!

আরও মজার বিষয়—ইসলামী দলের উত্তেজিত কর্মীদের বেলায় আবার নাচ-গানও নিষিদ্ধ! কারণ তাদের সামনে নাচলে পরিস্থিতি উল্টো জেহাদে রূপ নিতে পারে। তাই সেখানে পুলিশের করণীয়—দোয়া মাহফিল, হালকায়ে জিকির আয়োজন, আর বক্তাকে দিয়ে “কবরের ওয়াজ”—যা নাকি উত্তেজনা কমানোর পরীক্ষিত কৌশল!

তবে এ ব্যবস্থা কাজ করানোর জন্য বক্তার হাদিয়ার রেট ঠিক রাখা জরুরি—নইলে ওয়াজ পাল্টে গিয়ে জেহাদের ডাক পড়ে যেতে পারে বলেও লোকমুখে শোনা যাচ্ছে।

পুলিশ উভয়সঙ্কট—এই পরিস্থিতি জেলার মাঠ থেকে রাজধানী পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থাকে অকার্যকর করে দিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠছে। লাঠি ছাড়াই আগুন নেভানোর নির্দেশ—আর ধর্মীয় উত্তেজনা ঠেকাতে দোয়া মাহফিল—সব মিলিয়ে সরকারের নীতি এখন ব্যঙ্গ-বিদ্রূপের কেন্দ্রে, আর পুলিশ বাস্তবে দাঁড়িয়ে পড়েছে অসম্ভব এক দায়িত্বের দেয়ালে।

প্রিন্ট করুন