প্রিন্ট এর তারিখঃ বুধবার, ২৭ মে ২০২৬, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

সাংবাদিক আটক: উপদেষ্টার ইশারায় ডিবির মধ্যরাতের অভিযান নিয়ে তীব্র ক্ষোভ

shohel journalist 20251119 153139529
মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী

সাংবাদিক আটক: উপদেষ্টার ইশারায় ডিবির অভিযান ও ১০ ঘণ্টার গোপন হেফাজত

সাংবাদিক আটক—মধ্যরাতে বাসা থেকে তুলে নেওয়া, জুতা-বেল্ট খুলিয়ে গারদে রাখা, এবং প্রায় সাড়ে ১০ ঘণ্টা ডিবির হেফাজতে আটকে রাখা—এ ঘটনাকে ঘিরে দেশজুড়ে চলছে ব্যাপক ক্ষোভ ও বিতর্ক। অনলাইন এডিটরস অ্যালায়েন্সের সেক্রেটারি ও দৈনিক ভোরের কাগজের অনলাইন এডিটর মিজানুর রহমান সোহেল জানিয়েছেন, সরকারের এক উপদেষ্টার নির্দেশেই তাকে আটক করা হয়েছিল।

বুধবার সকাল সোয়া ১০টার দিকে মুক্তি পেয়ে নিজ বাসায় ফিরে তিনি ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে বলেন—“বিনা অপরাধে সাড়ে ১০ ঘণ্টা আটকে রাখা হয়েছে, কারণ আমি নাকি ৯ জন মোবাইল ব্যবসায়ীর ‘মনোপলি’ ব্যবসার পথে বাধা ছিলাম।”

তিনি জানান, ডিবির সদস্যরা তাকে জানায়নি কেন আটক করা হয়েছে, আর উর্দ্ধতন কর্মকর্তারাও কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। পরে তিনি উপলব্ধি করেন—এটি ছিল একটি ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটকে রক্ষা করার অপচেষ্টা।

সোহেল জানান, এনইআইআর প্রকল্প নিয়ে ব্যবসায়ীদের প্রেস কনফারেন্স বন্ধ করাই ছিল তাদের মূল উদ্দেশ্য। কিন্তু উল্টো তাদের চেষ্টায় বিষয়টি আরও বড় আকারে প্রকাশ্যে এসেছে।

তিনি আরও অভিযোগ করেন—দেশে মুক্ত বাণিজ্য ধ্বংস করে মাত্র ৯ জনকে সুবিধা দিতে ২৫ হাজার মোবাইল ব্যবসায়ীকে পথে বসানোর চক্রান্ত চলছে। এদের একজন ওই উপদেষ্টার স্কুলবন্ধু বলেও পোস্টে উল্লেখ করেন তিনি।

তার প্রশ্ন—“একটা ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কথা বললে সরকার ভয় পায় কেন? এটাই কি নতুন বাংলাদেশের বাকস্বাধীনতার বাস্তব চিত্র?”

তিনি বলেন, আটক হওয়ার খবর জানাজানি হতেই বহু শুভাকাঙ্ক্ষী সোশ্যাল মিডিয়ায় আওয়াজ তোলেন, বিবৃতি দেন ও খবর প্রকাশ করেন—এ কারণেই তিনি দ্রুত মুক্তি পেয়েছেন বলে বিশ্বাস করেন।

সাংবাদিক আটক—মধ্যরাতের এই অভিযান আবারও প্রমাণ করেছে, সাধারণ নাগরিক নয়, বরং ক্ষমতাসীনদের স্বার্থে কাজ করা একটি নেটওয়ার্কই বাকস্বাধীনতার সবচেয়ে বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। একটি ব্যবসায়িক সিন্ডিকেটকে রক্ষা করতে রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ এখন জনমনে আরও গভীর সংশয় তৈরি করছে।

প্রিন্ট করুন