প্রিন্ট এর তারিখঃ শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১২ আষাঢ় ১৪৩৩

মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতা—বিজয় দিবসে আবারও প্যারেড বাতিলের সিদ্ধান্তে তীব্র সমালোচনা

sbrstr updst 3p9j9XZ
মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী

মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতা—বিজয় দিবসে আবারও প্যারেড বাতিলের সিদ্ধান্তে তীব্র সমালোচনা

মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতা—এমন অভিযোগ ফের উঠেছে সরকারের বিরুদ্ধে, কারণ টানা দ্বিতীয়বারের মতো ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবসে প্যারেড (কুচকাওয়াজ) বাতিলের ঘোষণা দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। জাতির সবচেয়ে গৌরবময় দিনে রাষ্ট্রীয় সামরিক কুচকাওয়াজ বন্ধ রাখাকে বহু নাগরিক সরাসরি স্বাধীনতার মূল্যবোধের প্রতি অবজ্ঞা হিসেবে দেখছেন।

আজ বুধবার সকালে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লে. জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী সাংবাদিকদের জানান—
“গত বছরের মতো এবারও বিজয় দিবসে প্যারেড হবে না। দেশের কোথাও কোনো শঙ্কা নেই।”
সরকারের এমন বক্তব্যকে অনেকে পুরোপুরি অযৌক্তিক, অসংলগ্ন এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মনে করছেন।

সমালোচকদের অভিযোগ—সরকার পাকিস্তানপন্থী গোষ্ঠীকে খুশি করছে

বহু বিশ্লেষক ও সাধারণ মানুষ প্রকাশ্যে বলছেন—
স্বাধীন বাংলাদেশের বিজয়ের দিনটিতে রাষ্ট্রীয় সামরিক প্যারেড না করা মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ইচ্ছাকৃতভাবে খাটো করার অপপ্রয়াস। বিশেষ করে দেশে যখন পাকিস্তানপন্থী ও যুদ্ধাপরাধীদের পুনরুত্থানের অভিযোগ উঠছে, তখন এ ধরনের সিদ্ধান্তকে জনগণ গভীর সন্দেহের চোখে দেখছে।

এ ছাড়া অনেকে মনে করছেন—
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ঘটনার পর ক্ষমতায় থাকা গোষ্ঠী মূলত ৭১-এ পরাজিত শক্তি ও জঙ্গিবাদী চক্রকে সন্তুষ্ট করেই রাষ্ট্র পরিচালনা করছে। বিজয় দিবসের মতো জাতীয় অনুষ্ঠানের পরিধি সংকুচিত করা সেই ধারাবাহিকতারই অংশ।

‘অস্থিরতা নেই’—সরকারের দাবি নিয়ে প্রশ্ন

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা দাবি করেছেন—শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায়কে কেন্দ্র করে দেশের কোথাও অস্থিরতা নেই।
কিন্তু সাধারণ মানুষের প্রশ্ন—
যদি অস্থিরতা না থাকে, তাহলে টানা দুই বছর কেন কুচকাওয়াজ বন্ধ?
রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারা—এটাকেই অনেকেই সরকারের অক্ষমতা ও গোপন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যের ইঙ্গিত বলে মনে করছেন।

আন্তমন্ত্রণালয় সভায় সিদ্ধান্ত

সকালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী খোদা বখস চৌধুরী ও সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনি।
কিন্তু সভা শেষে জনমনে যে প্রশ্নগুলো ছিল—
সেগুলোর কোনো স্পষ্ট জবাব দেওয়া হয়নি।

জনমতের ক্ষোভ: “এ কি স্বাধীন দেশের পরিচয়?”

সোশ্যাল মিডিয়ায় বিস্ফোরণ হয়েছে ক্ষোভের। অনেকেই লিখছেন—
“বিজয় দিবসে কুচকাওয়াজ বন্ধ মানে জাতির অস্তিত্ববোধে আঘাত।”
আরও অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন—
রাষ্ট্র কি এখন মুক্তিযুদ্ধবিরোধী উপাদানগুলোর চাপে পরিচালিত হচ্ছে?

মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতা—সরকারের একের পর এক সিদ্ধান্তে দেশের গণমানুষ উদ্বিগ্ন

মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতা—এই অভিযোগ এবার আর কেবল রাজনৈতিক স্লোগান নয়; সরকারের ধারাবাহিক সিদ্ধান্ত এখন সাধারণ মানুষের মধ্যেও গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করছে। মানুষ বলছে—বিজয় দিবস ও স্বাধীনতার চেতনাকে যারা অন্ধকারে ঢেকে রাখতে চায়, তাদের উদ্দেশ্যই পূরণ হচ্ছে এই ধরনের রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তে।

প্রিন্ট করুন