তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনর্বহাল: ইউনূস সরকারের রাজনৈতিক প্রহসন
তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনর্বহালের ঘোষণা আজ সুপ্রিম কোর্ট দিয়েছে, তবে তা এই আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের জন্য নয়—বরং ভবিষ্যতের নির্বাচনে কার্যকর হবে। এই সিদ্ধান্ত নিঃসন্দেহে অবৈধ দখলদার ইউনূসের আজ্ঞাবহ আদালতের আরেকটি প্রহসন, যা মূলত অনির্বাচিত, অসাংবিধানিক ও অবৈধ শাসনগোষ্ঠীর ফরমায়েশি রাবার স্ট্যাম্প ছাড়া আর কিছুই নয়। যদি তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থাই হয় নিরপেক্ষ নির্বাচনের মূল ভিত্তি, তবে তা বর্তমান নির্বাচনসহ সব নির্বাচনের জন্য প্রযোজ্য হবে না কেন?
ইউনূস গোষ্ঠী নিজেরাই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কোনো মানদণ্ড পূরণ করে না। ২০২৪ সালের আগস্টের পর তারা তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে নানা নাটক করলেও প্রকৃত উদ্দেশ্য ছিল আওয়ামী লীগসহ প্রগতিশীল শক্তিকে নিষিদ্ধ করে নিজেরাই একটি সাজানো নির্বাচন আয়োজন করা। তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা বর্তমান নির্বাচনে প্রয়োগ করলে তাদের সেই পরিকল্পনা ভেস্তে যেত। তাই ভবিষ্যতের নির্বাচনে নামমাত্র পুনর্বহাল দেখিয়ে বর্তমান নির্বাচনে কারচুপি ধরে রাখার পথই বেছে নেওয়া হয়েছে।
ইতোমধ্যে ইউনূস সরকারের নির্দেশে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের ওপর দেশজুড়ে হত্যা, হামলা, নির্যাতন এবং নিঃশব্দ দমন-পীড়ন চালানো হয়েছে। হাজারো নেতা ও একশোর বেশি সংসদ সদস্যকে কোনো আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই দেড় বছর ধরে কারাগারে আটকে রাখা হয়েছে। গোপালগঞ্জে নিরস্ত্র প্রতিবাদকারীদের সামরিক বাহিনী দিয়ে হত্যা করা হয়েছে, পুলিশের ওপর বারবার গুলি চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এখন সেই সরকারের হাতে ‘নির্বাচন’ তুলে দিতে তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থাকে বর্তমান নির্বাচন থেকে সচেতনভাবে বাদ রাখা হয়েছে।
তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে এত প্রহসন, এত হত্যা, এত ষড়যন্ত্র যদি বৈধ হয়—তবে দায় কাদের? গ্রহণযোগ্যতার মানদণ্ড ভেঙেই যদি সবকিছুকে বৈধতা দেওয়া হয়, তবে আওয়ামী লীগ সরকারকেই বা দোষারোপ করা হচ্ছে কেন?

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী