ইপিজেড ভূমিকম্প : ভূমিকম্পে দৌড়, কান্না আর অচেতন—ইপিজেডে ৮০ নারীর হৃদয়বিদারক আতঙ্ক
ইপিজেড ভূমিকম্প আতঙ্কে কুমিল্লা এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোনে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অন্তত ৮০ জন নারী কর্মী প্যানিক অ্যাটাকে জ্ঞান হারান এবং হুড়োহুড়ি করে নামতে গিয়ে আরও ৫ জন আহত হন। কর্মীদের নিরাপত্তা ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা এমন ঘটনায় আবারও প্রশ্নের মুখে পড়েছে।
শুক্রবার (২১ নভেম্বর) দুপুরে কুমিল্লা ইপিজেড পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মো. সাইফুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ভূমিকম্প অনুভূত হতেই দুটি কোম্পানির নারী কর্মীরা দৌড়াদৌড়ি শুরু করেন এবং আতঙ্কে অনেকেই শ্বাসকষ্ট ও অজ্ঞান হয়ে পড়েন। গুরুতর আহত কেউ না থাকলেও ৫০ জনকে বেপজা হাসপাতালে এবং ৩০ জনকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য অনুযায়ী, সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে ভূমিকম্প অনুভূত হওয়া মাত্র পুরো ইপিজেড এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ভবন থেকে নামতে গিয়ে অনেকে পড়ে যান, কেউ কেউ ভয়ে অফিসের মেঝেতেই অজ্ঞান হয়ে পড়েন। দ্রুতই আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এদিকে, ভূমিকম্পের প্রভাবে কুমিল্লার দাউদকান্দির গৌরিপুর বাজার এলাকায় একটি পাঁচতলা ভবন হেলে পড়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। আরেকটি ভবনে ফাটল ধরেছে, যা এলাকাবাসীর মাঝে আরও আতঙ্ক তৈরি করেছে।
পর্যাপ্ত মহড়া না থাকা, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে কর্মীদের নিরাপত্তা–অবহেলা এবং ভূমিকম্প সতর্কতা ব্যবস্থার দুর্বলতা নতুন করে উঠে এসেছে এই ঘটনায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইপিজেডের মতো ঘনবসতিপূর্ণ শিল্প এলাকায় এ ধরনের বিশৃঙ্খলা জীবনহানির বড় ঝুঁকির ইঙ্গিত দেয়।
ইপিজেড ভূমিকম্প পরিস্থিতি দেখিয়ে দিয়েছে—অবহেলা আর প্রস্তুতির অভাবের কারণে যে কোনো দুর্যোগ মুহূর্তেই বড় বিপর্যয়ে রূপ নিতে পারে।

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী