প্রিন্ট এর তারিখঃ সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ৭ আষাঢ় ১৪৩৩

ডা. ফাহমিদা আজিম কাকলী: ডেঙ্গুর কাছে হার মানবিক চিকিৎসকের গল্প

kakoli 6922a1c66a80f
ফাহিমা বেগম প্রিয়া

ডা. ফাহমিদা আজিম কাকলী ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ঢাকার হাসপাতালে মারা গেছেন। কুমিল্লার প্রিয় গাইনি বিশেষজ্ঞ, মানবিক সেবার দৃষ্টান্ত এবং অসংখ্য রোগীর আশার আলো ছিলেন তিনি।

ডা. ফাহমিদা আজিম কাকলী—এই নামেই কুমিল্লার হাজারো মানুষ তাকে মনে রাখবে মানবিক চিকিৎসার প্রতীক হিসেবে। ডেঙ্গুর ভয়াল আগ্রাসনে রোববার (২৩ নভেম্বর) ভোর সাড়ে ৫টায় রাজধানীর একটি হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার বয়স হয়েছিল ৪৩ বছর।

তার বড় ভাই মনজুরুল আজীম পলাশ জানান, কয়েক দিন আগে ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হন কাকলী। দ্রুত তার কিডনি ও লিভার মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অবস্থার অবনতি ঘটলে শনিবার ঢাকায় নিয়ে আসা হয়। রক্তচাপ কমে গেলে আইসিইউ থেকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়। চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ চেষ্টা সত্ত্বেও রবিবার ভোরে তিনি পৃথিবী ছেড়ে চলে যান।

রোগীর জন্য নিবেদিত হৃদয়

কুমিল্লা ময়নামতি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের গাইনি ও প্রসূতিবিদ্যা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ছিলেন তিনি। একই সঙ্গে কুমিল্লা নগর মাতৃসদনের কনসালটেন্ট হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেছেন।

মানুষের প্রতি তার মমতা ছিল অনন্য। অসংখ্য দরিদ্র গর্ভবতী নারীর বিনামূল্যে সিজার করিয়েছেন—যা আজও কুমিল্লার মানুষের মুখে মুখে।
রোগীদের সঙ্গে তার আচরণ, হাসি, পরামর্শ—সবই ছিল চিকিৎসার বাইরে বাড়তি এক মানবিক ঔষধ।

সংস্কৃতি ও শিল্পের উজ্জ্বল মুখ

ডা. কাকলী শুধু চিকিৎসকই নন—তিনি ছিলেন সংস্কৃতিমনস্ক, শিল্পানুরাগী একজন উজ্জ্বল মানুষ।
তিনি অধুনা থিয়েটারের সক্রিয় সদস্য ছিলেন। গান শুনতে ভালোবাসতেন, প্রকৃতির মাঝে হারিয়ে যাওয়া ছিল তার নিত্যদিনের আনন্দ।

তার আকস্মিক মৃত্যুতে কুমিল্লার চিকিৎসক সমাজ, সংস্কৃতিকর্মী এবং সাধারণ মানুষের মাঝে নেমেছে গভীর শোক।

মায়ের অপেক্ষায় একমাত্র মেয়ে

কানাডায় অবস্থানরত একমাত্র মেয়ে তৃণা এখনো দেশে আসেননি। তার আগমন পর্যন্ত মরদেহ হিমঘরে রাখা হবে। তৃণা দেশে ফিরলে জানাজা ও দাফন সম্পন্ন করা হবে বলে পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে।

ডা. ফাহমিদা আজিম কাকলী—একজন মানবিক চিকিৎসকের বিদায় শুধু একটি মৃত্যু নয়; এটি কুমিল্লা, চিকিৎসা-সেবা এবং সংস্কৃতিচর্চার জন্য অপূরণীয় ক্ষতি।
তিনি থাকবেন মানুষের হৃদয়ে, থাকবেন তার সেবায় বাঁচানো অসংখ্য জীবনের স্মৃতিতে।

প্রিন্ট করুন