প্রিন্ট এর তারিখঃ বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬, ২৩ বৈশাখ ১৪৩৩

জেড আই খান পান্নাকে ঘিরে প্রশ্ন—তিনি কি সত্যিই শেখ হাসিনার আইনজীবী হতে চান?

FB IMG 1763968687049
মো. নেসার উদ্দিন

জেড আই খান পান্না: শেখ হাসিনা মামলায় তার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন কেন বাড়ছে?

জেড আই খান পান্নাকে ঘিরে সাম্প্রতিক সময়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। শেখ হাসিনার মামলায় তার সম্পৃক্ততা, অবস্থান, আগ্রহ এবং সময় নির্বাচন—সবকিছু মিলিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে। তিনি আসলে শেখ হাসিনার পক্ষে দাঁড়াতে চান, নাকি এর পেছনে রয়েছে আরও গভীর রাজনৈতিক ও কৌশলগত হিসাব—এ নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা ব্যাখ্যা।

মানবাধিকার কর্মী হিসেবে দীর্ঘ পথচলা

উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন নথি অনুসারে জেড আই খান পান্না বাংলাদেশের একজন সুপরিচিত মানবাধিকারকর্মী। তিনি আইন শালিস কেন্দ্রের চেয়ারম্যান এবং বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (BLAST)-এর ট্রাস্টি। পাশাপাশি তিনি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা।
বিগত কয়েক দশক তিনি মানবাধিকার, বিচারপ্রাপ্তি ও নাগরিক অধিকার নিয়ে কাজ করে আসছেন।

আগের সরকারের কড়া সমালোচক ছিলেন

বিগত সরকারের সময়ে মানবাধিকার লঙ্ঘন, নিপীড়ন, গুম-খুন বিষয়ে তিনি ছিলেন প্রকাশ্য সমালোচক। বিশেষত ২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলনের সময় তিনি রিট করেন এবং বিভিন্ন মাধ্যমে সরকারের কঠোর অবস্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ করেন। সেই সময়ের অবস্থান দেখে অনেকেই তাকে “রাষ্ট্রক্ষমতার বাইরে থাকা মানবাধিকারভিত্তিক কণ্ঠ” হিসেবে বিবেচনা করতেন।

ইউনূস সরকারের সময়ে নীরবতা—এটাই প্রথম প্রশ্ন

শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক ও জাতীয় অঙ্গনে বিচার প্রক্রিয়া চলাকালে তিনি অস্বাভাবিকভাবে নীরব ছিলেন।
সমর্থন নয়, সমালোচনা নয়—কোনো অবস্থানই নেননি।

মানবাধিকারকর্মী হিসেবে তার এই মৌনতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। অনেকে বলছেন—এই নীরবতার মধ্যেই লুকিয়ে রয়েছে তার রাজনৈতিক সতর্কতা বা কৌশল।

রায় ঘোষণার সময় হঠাৎ ঘোষণা—তিনি শেখ হাসিনার আইনজীবী হতে চান!

প্রশ্ন এখানেই সবচেয়ে বেশি।
মামলার প্রায় শেষ পর্যায়ে তিনি জানান—
“আমি শেখ হাসিনার আইনজীবী হতে চাই।”

কিন্তু তখন আইন অনুযায়ী রাষ্ট্রীয় ডিফেন্স কাউন্সেল ছিল আমির হোসেন।
আইনজীবী পরিবর্তনের সুযোগ ছিল না।
তাই অনেকে মনে করেন—এই ঘোষণা ছিল প্রতীকী, গণমাধ্যমে আলোচনায় আসার কৌশল, অথবা রাজনৈতিক বার্তা।

মঞ্চ-৭১: ঘোষণা, অনুপস্থিতি এবং গ্রেপ্তার—সবই নিয়ে রহস্য

তিনি “মঞ্চ-৭১” নামে একটি প্ল্যাটফর্মের ঘোষণা দেন—উদ্দেশ্য বলা হয় মুক্তিযুদ্ধ রক্ষা।
কিন্তু—

প্রথম প্রেসক্লাব ব্রিফিংয়ে তিনি উপস্থিত ছিলেন না

তার সহযোগীদের গ্রেপ্তার করা হয়

তিনি নিজে গ্রেপ্তার হননি

পরে তিনি তাদের জামিনের পক্ষে আদালতে দাঁড়ান

এখানেও প্রশ্ন তৈরি হয়—
তার অনুপস্থিতি কি কৌশলগত সুরক্ষা ছিল? নাকি এ সিদ্ধান্তের পেছনে অন্য ব্যাখ্যা আছে?

শেষমেশ শেখ হাসিনার পরবর্তী মামলায় ডিফেন্স লইয়ার—প্রশ্ন আরও গভীর

সব বিতর্কের শেষে শেখ হাসিনার পরবর্তী মামলায় তিনি সরকারিভাবে ডিফেন্স আইনজীবী হিসেবে যুক্ত হন।

এই নিয়োগ অনেককে বিস্মিত করে।
কারও মতে—এটি মানবাধিকারবিষয়ক নীতি অনুসরণ;
কারও মতে—এটি রাজনৈতিক পুনর্সংযোগ;
আবার অন্যদের মতে—পূর্বের নীরবতা, সময় নির্বাচন এবং বর্তমান গ্রহণ—সব মিলিয়ে এক অস্বচ্ছ চিত্র তৈরি হয়েছে।

শেখ হাসিনার কর্মী ও সমর্থকদের অবস্থান

পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, শেখ হাসিনার দলের বেশিরভাগ কর্মী তার প্রতি আস্থাহীন।
তাদের দাবি—

তার পূর্বের অবস্থান স্পষ্ট নয়

তিনি হঠাৎ করে আসেন

তার উদ্দেশ্য বোঝা যায় না

তাই অনেকেই চান না তিনি শেখ হাসিনার আইনি দলে থাকুন।

জেড আই খান পান্না বাংলাদেশের একজন অভিজ্ঞ আইনজীবী, মানবাধিকারকর্মী ও বীর মুক্তিযোদ্ধা। তবুও তার নীরবতা, সক্রিয়তা, সময় বেছে নেওয়া, প্ল্যাটফর্ম ঘোষণা এবং পরবর্তী আইনি যুক্তি—সবই অনেক প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে।
তিনি সত্যিই শেখ হাসিনার পক্ষে দাঁড়াতে চান, নাকি এখানে লুকিয়ে রয়েছে আরও বড় কৌশল—এটা এখনো পরিষ্কার নয়।
শেষ পর্যন্ত সময়ই বলে দেবে—তার অবস্থান মানবাধিকার, রাজনীতি নাকি ব্যক্তিগত কৌশলের উপর দাঁড়িয়ে আছে।

প্রিন্ট করুন